ঢাকা: জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে তাতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি দেখানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ৯৭,৮৫৩ কোটি টাকা। প্রায় এক লাখ কোটি টাকার এই ঘাটতি মেটাতে নতুন বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ধার করতে হবে সরকারকে। এই অংক বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৯ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ শতাংশ কম।
এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা নতুন বাজেটে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাত মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ফর্দ ধরেছেন মুহিত। এই খরচ মেটাতে রাজস্ব হিসেবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে বাজেটে। আয় ও ব্যয়ের এই হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ।
নতুন বাজেটে ব্যাংক থেকে যে ঋণ হবে বলে ধরা হয়েছে, তা বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি। আর মূল বাজেটের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি। নতুন বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের যে হিসাব মুহিত দেখিয়েছেন, তার পরিমাণ বিদায়ী মূল বাজেটের চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি হলেও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬২ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা করা হয়।