• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন |

জলঢাকায় ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে তিন কৃষি কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

লাঞ্চিতসিসি নিউজ: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেছেন কাঁঠালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক সোহবার হোসেন তুহিন। রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে সোহরাব হোসেন জলঢাকা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে ওই কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং সেখান থেকে বের হয়ে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা  হরেন্দ্র নাথ রায় ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপরও চড়াও হন।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সাদেকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, কাঁঠালি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন তুহিন দুপুরে আমার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এসময় তিনি বোরো ধান সংগ্রহে তার ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডে কম কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকেন।
এরপর অফিসের টেবিলে থাকা ডেক্স ক্যালেন্ডার তুলে সেটি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এতে আমার কপাল ও মুখমন্ডল কেটে যায়। এরপর তিনি আমার কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাহিরে দুই উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপর চড়াও হন’।
তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তিনি জলঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নীলফামারী কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মো. ইদ্রিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এ ঘটনার হামলা চালিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা এর বিচার চাই। জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। এ জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ দিকে অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে সোহরাব হোসেন তুহিন বলেন, আমার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৫শ মানুষ বসবাস করেন। সেখানে ৬ জন কৃষকের তালিকা করেছে কৃষি বিভাগ। যার মধ্যে ৪ জনই ভূমিহীন। আমি এর প্রতিবাদ করতে গেলে কৃষি কর্মকর্তা নাটক সাজান।
সূত্র মতে চলতি বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানে জলঢাকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার কৃষকদের সরকারি খাদ্য গোদামে সরাসরি ধান বিক্রির জন্য দুই হাজার ১৭৬ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে কাঁঠালি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন। সরকারি দলের একটি চক্র তাদের মনোনিত কৃষকদের তালিকা দিয়ে স্থানীয় পাইকার নিকট বিক্রি করে দিচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ