রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মালিবাড়ী এলাকায় জনসাধারণ স্বেচ্ছাশ্রমে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেছে। এতে করে ওই ওয়ার্ডের ২টি গ্রামের ৪০০ পরিবারের প্রায় ৩ হাজার মানুষজনের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, মালিবাড়ী এলাকার শ্রী রাখাল চন্দ্র রায়-এর নিজস্ব পৈত্রিক সম্পত্তির উপর দিয়ে দু’গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য সম্প্রতি তিনি রাস্তার জায়গা নির্ধারণ করে দেন। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাস্তাটির মেরামত কাজ শুরু করে দেন এবং এখন প্রায় কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রতিনিয়ত ওই রাস্তা দিয়ে দুই গ্রামের ৪০০ পরিবারের প্রায় ৩ হাজার লোকজন যাতায়াত করার কথা এ প্রতিনিধিকে জানালেন এলাকাবাসী। কথা হয় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সৈয়দ আলী (৫৯), মোবারক আলী (৬৭), সোনাউল্লা (৬৫) বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও রাখাল চন্দ্র রায় জনসাধারণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এলাকাবাসীকে ডেকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি দিয়ে রাস্তা তৈরি করার কথা জানানোর পর দুই এলাকার নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে প্রতিদিন রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করে আসতে দেখা গেছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। জনসাধারণের দূর্ভোগ লাঘব হওয়ায় তারা রাখাল চন্দ্রের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাখাল চন্দ্র রায় (৫৪) তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, কতদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো। দু’একটি ভালো কাজ করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। এ কথা মাথায় রেখে মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্তে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রাজারহাটে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজী
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কয়েকদিনের টানা তীব্র তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি রমজান শুরু হওয়ায় ঘন ঘন বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় জনসাধারণ বিপাকে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে ইফতারি, তারাবির নামাজ এবং সেহ্রীর সময় বিদ্যুতের ভেল্কিবাজী অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ৫-৬ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম মোজাম্মেল হক জানান, বর্তমান প্রতিদিন জেলায় ৩৯ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু গত ৩ দিন ধরে ২১ হতে ২৪ মেঘাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ হচ্ছে। এজন্য লোড শেডিং-এ পড়তে হচ্ছে। এদিকে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুতের লাইন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রের নির্দ্দিষ্ট নম্বরে টেলিফোন করেও তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন, গাছপালার ডালে ঘর্ষণ লেগে বিদ্যুতের ফেজ পড়ে গেছে। এছাড়া তাদের নিকট আর কোনো আশার বাণী গ্রাহকদের শোনাতে রাজি নন তারা। কবে এসবের অবসান হবে, তা অত্র উপজেলার বিদ্যুতের গ্রাহকরা জানেন না। এসব দুর্দশা লাঘবে বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন রাজারহাট উপজেলাবাসী।