• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন |

পল্লী বিদ্যুত: ঘুষ ছাড়া সংযোগ মেলে না

বিদ্যুতসিসি ডেস্ক: ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে চায় সরকার। কিন্তু পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতায় বর্তমানে ৭৭টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে সরকার। নতুন এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো ও নতুন সংযোগ দেয়াসহ বিভিন্ন কাজে কালক্ষেপণের অভিযোগ রয়েছে এসব সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এছাড়া দালালদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। এসব অফিসে একইসঙ্গে চলছে ঘুষের মচ্ছব। ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল। ঘুষ না দিলে গ্রাহক হয়রানি করা হয়। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমএডি) একটি প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে।
জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যমান বিতরণ ব্যবস্থায় ১০ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। ২০১০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে ২০১২ সালে। আরইবির ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬১ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে ১০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা ছিল। বরাদ্দের সামান্য কম অর্থ ব্যয় করে প্রকল্পের আওতায় ৯ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬টি সংযোগ দেয়া হয়। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এর প্রভাব মূল্যায়ন করে আইএমইডি। মূল্যায়নের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গ্রাহকদের হয়রানির চিত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় সংযোগ পাওয়া ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ গ্রাহক কোনো না কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ গ্রাহক সংযোগ পেতে বাড়তি সময় অপেক্ষা করেছেন। বিদ্যুতের সংযোগ পেতে নির্ধারিত অর্থের বাইরে ঘুষ হিসেবে টাকা দিতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ৯ দশমিক ৯ শতাংশ গ্রাহক। ঢাকা বিভাগের ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ গ্রাহক সংযোগ পেতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন। আবেদনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যে সংযোগ দেয়ার নিয়ম থাকলেও সংযোগ পেতে গ্রাহকদের সময় লেগেছে গড়ে ৪ দশমিক ৭৮ মাস। তিন মাসের কম সময়ে বিদ্যুৎ পেয়েছেন ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ গ্রাহক। বিদ্যুৎ পেতে ছয় মাস লেগেছে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ গ্রাহকের। ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ গ্রাহকের সংযোগ পেতে সময় লেগেছে ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। আবেদনের ১৮ মাস পরও অনেক গ্রাহক বিদ্যুতের সংযোগ পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, আবাসিক গ্রাহকদের বেশিরভাগ ২০১১ এবং ২০১২ সালে সংযোগ পেয়েছেন। সংযোগ পেতে অর্ধেক গ্রাহককে সংযোগের জন্য অপেক্ষা এবং টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল। সংযোগের জন্য গ্রাহককে দরখাস্ত করার পর গড়ে প্রায় ৫ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সংযোগ দিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে যাতে অতিরিক্ত টাকা নেয়া না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। স্বল্পতম সময়ে সংযোগ দেয়া এবং সংযোগ দেয়ায় দুর্নীতি বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো যাতে সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, সেজন্যই সরকার আইএমইডির মাধ্যমে টাকা খরচ করে প্রভাব মূল্যায়ন করে থাকে। এতে করে প্রকল্পের গুণগতমান বাড়ে এবং দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ কমে। সুতরাং মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর উচিত আইএমইডির এসব সুপারিশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া।
জামালপুর থেকে সাইদ পারভেজ তুহিন জানান, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা, পদে পদে অনিয়ম আর ঘুষ বাণিজ্যের কারণে সেবার বালাই নেই। প্রায় অর্ধকোটি কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করে এখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে কয়েক লাখ গ্রাহককে। ইলেক্ট্রিশিয়ান ও ক’জন চিহ্নিত দালালের মাধ্যমেই চলছে সেচ সংযোগসহ মোটর, ট্রান্সফরমার, গ্রাউন্ডিং রড কেনাবেচা কার্যক্রম। গ্রাহকদের ভাগ্যে প্রতিনিয়তই জুটছে ধমক, হয়রানি, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, জরিমানাসহ মামলার হুমকি। মেলান্দহ উপজেলার এক সেচ গ্রাহক জানান, দালাল ছাড়া এখানে সেচ লাইন পাওয়া যায় না। তার আবাসিক সংযোগটি পেতে সময় লেগেছে দুই বছর। অনেক ঝক্কি-ঝামেলা আর হয়রানির পর সবশেষে মিটার লাগাতে তাকে উৎকোচ গুনতে হয়েছে দেড় হাজার টাকা। বর্তমানে আবাসিক লাইনে ইলেক্ট্রিশিয়ানরা ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বিভিন্ন কৌশলে।
এ বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার বলেন, নিউজ করলে কী হয়? আপনাদের কাজ আপনারা করবেন, আমাদের কাজ আমরা করব। তাছাড়া আমিও সাংবাদিক ছিলাম।
বগুড়া থেকে গণেশ দাস জানান, জেলার সাড়ে তিন লক্ষাধিক গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাওয়া তো যায় না বরং উল্টো আরও হয়রানির শিকার হতে হয়। বিভিন্ন সংযোগ নিতে কয়েক ধাপে ঘুষ লেনদেন করতে হয়। ঘুষ না দিলে বিভিন্ন কায়দায় হয়

উৎস: আলোকিত বাংলাদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ