সিসি নিউজ: নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলকে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসেব জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসেব জমা দেয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এ সপ্তাহেই এ চিঠি পাঠানো হবে।
তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি দেয়া হচ্ছে না। উচ্চ আদালতের রায়ে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় দলটিকে চিঠি দেয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ইসির এক সভায় বিষয়টি অনুমোদন হওয়ায় সোমবার চিঠি পাঠানোর সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট শাখা।
ইসির কর্মকর্তা রোমান মাহবুব জানান, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার তাগিদ দিয়ে ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দু-একদিনের মধ্যেই এ চিঠি সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে পাঠানো হবে। চিঠিতে দলগুলোর হিসাব জমা দিতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হচ্ছে। এ সময়ের পর কোনো ভাবেই হিসাব নেয়া হবে না। বিষয়টি আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।
ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। ইসি থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাবের ফরম দেয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি খাত অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট তথ্য তারিখসহ উল্লেখ করতে হবে।
ইসি সূত্র আরো জানায়, গত বছর কয়েকটি দল নির্দিষ্ট সময়ের পরে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিলেও তাদের সে হিসাব গ্রহণ করেনি ইসি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্বের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসেবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ইসিতে জমা দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল পরপর তিন বছর ইসিতে তথ্য দিতে করতে ব্যর্থ হলে ইসি সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।