সিসি ডেস্ক: রমজানের শুরু থেকে হু হু করে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সেখানে চালের কেজি ১০ টাকা! অবাক হওয়ারই কথা। তবে কোনো গল্প নয়, বাস্তবে মংলায় ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এক কেজি চাল। আর মংলার মানুষদের জন্য এ সুযোগ করে দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পৌর মেয়র জুলফিকার আলী। পুরো রমজান মাস জুড়ে এ সুযোগ পাবেন এখানকার মানুষ। বুধবার দুপুর ২টায় মংলা পৌরসভার সামনে গিয়ে দেখা যায় সারিবদ্ধভাবে চাল নিচ্ছেন দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় কিছু মানুষ।
কথা হয় চাল বণ্টনের দায়িত্বে থাকা মো. মিলনের সাথে। তিনি বলেন, ‘মেয়র জুলফিকার আলী রমজানের শুরু থেকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ভর্তুকি দিয়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের জন্য ১০ টাকায় এক কেজি চাল, ৫০ টাকায় এক কেজি চিনি, ৭০ টাকায় এক কেজি ছোলা দিচ্ছেন।’
রমজানের শুরু থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৫শ দুস্থ মানুষ এ সুযোগ ভোগ করেছেন জানিয়ে মিলন বলেন, ‘একজন প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি চিনি ও এক কেজি ছোলা কিনতে পারছেন।’
এ ব্যাপারে মংলা পৌরসভার মেয়র জুলফিকার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রমজান মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এ সময় দুস্থ ও অসহায় মানুষদের দ্রব্যমূল্যের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যায়। তাই তারা যেন স্বাভাবিকভাবে রোজা রাখতে পারেন সেই কারণে এ উদ্যোগ।’
চাল নিতে আসা মংলার শেহালাবুনিয়ার বাসিন্দা শাহানাজ বেগম (৬০) বলেন, আমার পরিবারে ১৮ জন সদস্য। এমনিতেই নুন আনতে পানতা ফুরায়। তার উপর রমজান মাস আসলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। ১০ টাকা দরে চাল দেওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।
মংলা বণিক সমিতির সভাপতি হাবিব মাস্টার জানান, দশ টাকা দরে মেয়র চাল দেওয়ায় চাল ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা কিছুটা কমে গেছে। তবে মেয়রের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী এ নেতা।
বর্তমানে মংলায় চালের সর্বনিন্ম দর ১৮ টাকা, এক কেজি ছোলা ৮৫ টাকা এবং এক কেজি চিনি ৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান মুদি ব্যবসায়ী আহম্মদ উল্লাহ।
উৎস: পরিবর্তন