• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন |

ফুলবাড়ী শহরের ড্রেনের পানি উপচে ঢুকছে বাসাবাড়িতে

1212মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের শতাধিক ড্রেন পরিষ্কার না করায় ড্রেনের পানি উপচে ঢুকছে বাসাবাড়িতে। জনদূর্ভোগ বাড়ছে পৌর শহরে। ১৯৮৩ সালে ফুলবাড়ী পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮ জন পৌর মেয়র ফুলবাড়ী পৌরসভার প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তারা পৌরসভা পরিচালনায় কিছু কিছু কাজ ভালো করলেও। বর্তমান ফুলবাড়ী পৌরসভার নাগরিকেরা পৌর কর ও অন্যান্য কর পরিশোধ করার পরও নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। অনেক রাস্তায় বাতি নেই, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সুবিধা নেই, রাস্তা ঘাট পরিষ্কারের ব্যবস্থাপনা নেই, ড্রেন গুলিতে আবর্জনা পড়ে ভরাট হয়ে গেলেও পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেই, অনেক এলাকায় ডাস্টবিনের ব্যবস্থা নেই, ডাস্টবিনের ব্যবস্থা কয়েক স্থানে থাকলেও সময়মত পরিষ্কার করা হয় না, আবার বেশ কয়েকটি ডাস্টবিন ভেঙ্গে পড়েছে, মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই। এরেই নাম ফুলবাড়ী ১ম শ্রেণির পৌরসভা। ফুলবাড়ী কাঁটাবাড়ী গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত ঠাকুর প্রসাদ এর পুত্র শ্রী ভিম প্রসাদ অভিযোগ করে বলেন প্রত্যেক বছর বর্ষা মৌসুমে ড্রেন পরিষ্কার না করায় ড্রেনের পানি ভর্তি হয়ে উপচে বাসা বাড়িতে ঢুকছে। একই কথা বলেন একই ওয়ার্ডের শিববাড়ী মন্দিরের সভাপতি মনোজ কুমার মল্লিক, অজিত আলী, শওকত আলী, ফরমান আলী, আবুল করিম, মনতাজ আলী পৌরসভায় ড্রেন পরিষ্কারের বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন সুরাহ্ পান নি। তারা বলেন শিববাড়ী রাস্তার পার্শ্বে ড্রেনের পানি উপচে এলাকায় ঢুকে পড়ছে। এ ব্যাপারে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আব্দুল জব্বার মাসুদ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন পরবর্তী বাজেটে মাষ্টার প্লান হলে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। তখন এলাকাবাসীর এ সমস্যা থাকবে না।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে পৌর কর্তৃপক্ষ গত ২ মাস ধরে পৌরসভার কোন এলাকা পরিষ্কার করছেন না। সকালে দেখা যেত সুইপারেরা শহর ঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করত। এখন ঐ ব্যবস্থা নেই। পুরো শহরের ওলিগলি ও রাস্তার পার্শ্বে আবর্জনায় ভর্তি হয়ে গেছে। ফলে ফুলবাড়ী ১ম শ্রেণির পৌরসভা তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভার পরিণত হয়েছে। তৎকালীন সময় শাহাজাহান আলী সরকার পুতু বাজার হয়ে শান্তি মাষ্টারের বাড়ি হয়ে নদীতে যাওয়ার একটি পাকা ড্রেন নির্মাণ করেন। যার উপর এখন কসাইখানায় গড়ে উঠেছে পশ্চিম গৌরিপাড়া নদীর ধারে। আর সাবেক পৌর মেয়র মৃত হবিবর রহমান সরকার কাঁটাবাড়ী ও বাজারের লোকজনের সুবিধার্থে কাটিয়ারধার হতে নদী পর্যন্ত একটি প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণ করেন। চোখে পড়ার মত এই দুটি কাজ। বাকি ফুলবাড়ী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মাষ্টার প্লান ছাড়াই যেসব ড্রেন ও রাস্তা হয়েছে তা সবই শুভঙ্করের ফাকির কাজ। তাদের করে যাওয়া কাজগুলি পড়ে রয়েছে। সংস্কার ও পুন:নির্মাণ করার কোন উদ্যোগ নেই।
ফুলবাড়ী পৌরসভায় জাপান ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে জাইকা প্রকল্প নাম দিয়ে ফুলবাড়ী পৌরসভার যে রাস্তা ঘাটগুলি করা হচ্ছে তাও নিম্ন মানের। যা দুই ৩ বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাবে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছে না। উপরন্তু বলা হচ্ছে বাধা দিলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
চলতি বছর বিভিন্ন রাস্তায় ইট বিছানো ও ঢালাইয়ের কাজ চলছে। ইটের দাম বেশী হওয়ায় ঠিকাদারেরা ৩নং ও ২নং ইট দিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে চলছে পৌর শহরের উন্নয়ন। দেখে মনে হচ্ছে পৌর সভার কোন প্রশাসক নেই। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী বাসী পৌর কর্তৃপক্ষের নেক দৃষ্টি কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ