মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে ঢেপা নদীর উপর ব্রীজটি এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন গত ৪৫ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার হাজার হাজার মানুষসহ শত শত যানবাহন নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
ব্রীজটি যে কোন সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারাতে পারে মানুষ। উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর শাখা আত্রাই নদী ঢেপা নদীর রূপলাভ করে। বীরগঞ্জ-ঝাড়বাড়ী সড়কে বৃটিশ শাসনামলে খেয়া ঘাটের মাধ্যমে গরু-মহিষের গাড়ি ও মানুষ পারাপার হতো তখনকার মানুষ।
দিনাজপুর জেলার খানসামা বন্দর ও পঞ্চগড় দেবীগঞ্জের বাহাদুর ফেরিঘাট হয়ে নদী পথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য করত শতশত মানুষ। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য ১৯৫০ সালে তৎকালীন সরকারের সময় উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রাম সংলগ্ন ঢেপা নদীর উপর জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩০ মিটার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনারা ওই ব্রীজটি উড়িয়ে দেয়ার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ১৯৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পঞ্চগড় জেলার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে দেশে শত শত ব্রিজ ধ্বংস হয়। কিন্তু ঢেপা নদীর ব্রীজটি একদিকে হেলে পড়লেও এই ব্রীজটি ধ্বংস হয়নি। ভয়াবহ বন্যার পর থেকে ঢেপা ব্রীজটি পুনঃনির্মানের দাবি তোলা হয়, কিন্তু আজও সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি ।
প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজের উপর দিয়ে অসংখ্য বাস, মিনিবাস, কোচ, বাইসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক-ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, রিক্সা-ভ্যান, অটোরিক্সা, ভটভটি, মাইক্রোবাস, এ্যাম্বুলেন্সসহ ভারী যানবাহন চলাচল ও পারাপার করছে। ব্রীজটির উপরের অংশে অসংখ্য ভাঙন রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রতিবছর সংস্কার ও যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা কর হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মধ্যে লোকজনকে ব্রীজটি মাপামাপি করতে দেখা গেলেও আজ পর্যন্ত পুনঃননির্মাণ করা হয়নি। ঢেপা নদীতে ৩০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটিতে যে কোন সময় ভারী যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনায় পড়ে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
তাই অবিলম্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনোরঞ্জন শীল গোপালের হস্তক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ ঢেপা নদীর ব্রীজটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।