ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: শেখপাড়া ডি.এম.ডিগ্রী কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী২০১৬’ এর ‘মানবিক বিভাগের’ ছাত্রী আসমা খাতুন (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। গত ১৭ জুন সন্ধ্যা ৫ টা ৩০ মিনিটে আসমা মারা যায়।
ঝিনাইদহের শৈলকুপার শেখপাড়া দুঃখী মাহমুদ কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় আসমা খাতুন নামে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে, তার প্রতিবাদে ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া-মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কলেজে ভুগোল বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি ধার্য্য করা হয় ৪০০ টাকা করে, বসন্তপুরের আনসার আলীর মেয়ে আসমা খাতুন ৩০০ টাকা দিতে চায় কিন্তু হাফিজুর রহমান নামে ভুগোল বিভাগের প্রভাষক, টাকা কম না নিয়ে, নাম্বার কম দেয়ার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে হত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আসমা ভয়ে আত্মহত্যা করে।
শিক্ষার্থিরা আরো অভিযোগ করেন, কলেজে নতুন নতুন বৈষম্য তৈরী করছে, ভর্তি ফি বেশী নেওয়া হচ্ছে, ফরম ফিলাপে ফি বেশী নেয়া হয়, গরীব ছাত্রদের পড়ালেখার কোন পরিবেশ নেই।
ঝিনাইদহের শৈলকুপার ১ নং ত্রিবেণী ইউনিয়নের বসন্তপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আনসার মোল্লার ২ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়ে আসমা খাতুন শেখপাড়া ডি.এম.ডিগ্রী কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ’২০১৬ এর ‘মানবিক’ বিভাগের ছাত্রী ছিল।
আসমা খাতুনের পিতা মাতা ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আসমা খাতুন ফরম ফিলাপের সময় সকল প্রকার ফি পরিশোধ করার পরও ব্যবহারিক পরিক্ষার জন্য বাড়তি ফি আদায় করেছেন কলেজের ভুগোল বিষয়ের শিক্ষক মোঃ হাফিজ সহ কৃষিশিক্ষা, গাহ্রস্থ বিঙ্গান সহ প্রভৃতি ঐচ্ছিক বিষয়ের শিক্ষক মহোদয়।
দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আসমা টাকা যোগাড় করতে না পারায় শিক্ষদের স্বরণাপন্ন হয় এবং শিক্ষকদেরকে বিষয়টি অবহিত করে।
কিন্তুু শিক্ষকরা তাকে কটুক্তি এবং উপহাস করে। আসমা খাতুন কটুক্তি সইতে না পেরে ১৬ জুন বাড়ি ফিরে আসে এবং তার নিজের থাকা পৃথক ঘরে বিষপানে আত্মহত্যা করে।
অভিযুক্ত প্রভাষক হাফিজুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।