।। আব্দুস সালাম আজাদী ।। মাওলানা মহিউদ্দীন খান সাহেব ইন্তেকাল করেছেন। আমাদের ইয়াতিম করলেন, আমরা তার অভাব পূর্ণ হবে এই আশা করতেও ভয় পাচ্ছি। হৃদয় শুধু কানছে না, ভেংগে যাচ্ছে ব্যথার কাতরতায়।
তার মত মানুষ বাংলাদেশে ক’জন জন্মেছে? যাদের কারণে বিশ শতকে ইসলাম বাংলাদেশে পা শক্ত করে দাঁড়িয়েছে, মাওলানা খান ছিলেন তাদের একদম পয়লা সারিতে।
তিনি মদীনা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, ইসলামি জ্ঞান গবেষণাকে খুব সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন, ইসলাম বুঝাতে যে কলম তিনি ব্যবহার করতেন তা সাধারণের কাছে ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। তিনি বেশ কিছু লেখক লেখিকা শুধু তৈরি করেন নি, তাদের ইসলামের জন্য যোগ্য কলম সৈনিক বানিয়েছিলেন।
তিনি তিলে তিলে ক্ষয় হওয়া একজন ক্ষনজন্মা আলিমে দ্বীন, যিনি অর্থের অভাব কাটিয়ে উঠতে কলম ধরেছিলেন, এবং এই কলম ই তাকে দিয়েছিলো দুনিয়ার সম্মান ও আখিরাতের রেজায়ে রাব্বি, যার প্রমান আমরা মানুষের ভালোবাসায় দেখতে পাই।
তিনি দারসে নিযামি ও আলিয়া নেসাবে পাস করা এমন একজন আলিমে দ্বীন যাকে সব গ্রুপের মানুষই ভালোবাসতো, তাকে মুরুব্বি হিসেবে গ্রহ্ন করতো। ফলে দেশের ক্রান্তি কালে তিনি সব সময় মুরুব্বির ভূমিকা পালন করেছেন। এই স্থান পাওয়ার মত আমরা শায়খুনা জনাব উবায়দুল হক খাতিব সাহেব হুজুরকে দেখেছি। তবে খান সাহেব ছিলেন সবার চেয়ে বেশি সাওয়াবের অধিকারি যার লেখনি দেশের ইসলামি চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে, ইসলাম প্রচারে ভূমিকা পালন করেছে, এবং ইসলাম বিরোধি শিবিরে তার অস্তিত্ব ছিলো একদম অসহনীয়। কারণ বাতিলের বিরুদ্ধে তার কথা বের হত বারুদের গন্ধ নিয়ে, সিংহের হুংকার হয়ে, আর কালিমায়ে হাক্ক এর শ্রেষ্ট উপমা সহকারে।
তিনি বাংলাদেশে ইসলামের সম্ভাবনা দেখতেন বিজয়ী শক্তি হিসেবে। তিনি আলিম উলামাদের অনৈক্য সহ্য করতে পারতেন না। সবার কাছে যেতেন, এক প্লাট ফর্মে বসতেন। তিনি মাওলানা মাওদূদির লেটারেচার কে মারাত্মক ঘৃণা করতেন এবং তার বিরুদ্ধে অনেক বিষোদ্গার ও করেছেন বিভিন্ন স্থানে বা লেখায়। কিন্তু জামাআতে ইসলামি ও ছাত্র শিবিরের সাথে সম্পর্ক ছিলো নিবীড়। অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর তিনি ছিলেন রূহানি রাহবার। তার কান্না ছিলো ইসলামের জন্য, সেই জন্য তিনি সবার সাথে মিলে মিশে কাজ করার জন্য বেচাইন থাকছেন সদা সর্বদা।
রাবেতায়ে আলমে ইসলামির স্থায়ী সদস্য ছিলেন তিনি, রাবেতা ও ও আই সি এর ফিকহ কাউন্সিলের তিনি ছিলেন সদস্য, সারা বিশ্বের ইসলামি স্কলার হিসাবে তিনি পেয়েছেন প্রচুর খ্যাতি। তার লেখা গ্রন্থ শতাধিক। যার মধ্যে অনুদিত গ্রন্থই বেশি।
মুজাম্মা’ মালিক ফাহাদ থেকে বিভিন্ন ভাষায় কুরআন প্রচারের একটা প্রকল্প নেয়া হয়। বাংলা ভাষায় ‘তাফহীমুল কুরআন’ নির্বাচিত করা হয়, এবং প্রায় ৭০% কাজ সম্পন্ন হয়। তিনি এটা জানতে পেরে খুব পেরেশানিতে পড়েন। তিনি বুঝতে পারেন এই গ্রন্থ বাংলাদেশে পাবলিকের হাতে গেলে অনেক শোরগোল হয়ে যাবে। ফলে তিনি প্রায় ১০০ শ্রেষ্ঠ আলিমের সিগ্নেচার সংগ্রহ করে তাফহীমুল কুরআন প্রিন্টিং বন্ধ করে দেন, এবং তার অনুদিত মাআরিফুল কুরআনের সার সংক্ষেপ প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। পরে অবশ্য মাআরিফুল কুরআন টাও নতুন করে আর প্রকাশিত হচ্ছে না। বাংলাদেশের অনেক উলামা এর বিরুদ্ধে বাদশাহের কাছে চিঠি লেখে।
তিনি চলে গেলেন। জান্নাতের মেহমান হয়ে তিনি আমাদে বিদায় জানালেন। ও আল্লাহ, তুমি আমাদের এই মুরুব্বি কে ক্ষমা করে দাও, মায়া কর, দয়া কর, জান্নাতুল ফিরদাওসের সর্বোচ্চ মাক্বাম দান কর। তার খিদমাত গুলো ইসলামের জন্য কবুল করে নাও।