• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন |

অবৈধ বালি উত্তোলন: মৃত্যুকূপ

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এন এন রানা, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও): ‘জন্মিলে মরিতে হবে’ এই কঠিন সত্যাটিকে মেনে নিয়ে মানুষ তার জীবনের অলিগলি ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই, সাফল্য-ব্যর্থতা পেরিয়ে একদিন মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করে। আর এই মৃত্যুকেই আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মেনে নেই। এই মৃত্যু যখন স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কোন অস্বাভাবিক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে ঘটে, তখন আমরা তা মানতে পারি না। মেনে নিতে বুকের ভেতর অনেক রকমের কষ্টের উপস্থিতি টের পাই। ভেতরের নান্দনিক আনন্দগুলো ক্রমে ফিকে হয়ে আসে। গত দু’মাসে সেরকই কিছু দুর্ঘটনা আমাকে মর্মাহত করেছে। করেছে চিন্তিত। শুকনো মৌসুমে আমাদের এই এলাকার নদী-নালা গুলো পানিশূন্য হয়ে পরে। এই সুযোগে কিছু অসাধু বালি ব্যবসায়ী মরা নদীগুলো থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সেই মরা নদীগুলো সামান্য সতেজ হয়ে উঠে। কোথাও কোথাও হাটু পানি আবার কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি জমে। আর অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনে যে অনাকাঙ্খিত গর্তের সৃষ্টির হয়েছিল সেই গর্তটি সাত-আট ফুট গভীর পানির চোরাবালি বা মৃত্যুকুপে পরিণত হয়।
এরকম চোরাবালিতে পরে গতকিছু দিনে শুধু মাত্র ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলাতেই ২৫-৩০ জন হতভাগ্যের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এদের মধ্যে অধিকাংশই ৫ থেকে ২০ বছর বয়সী সাঁতার না জানা অল্প সাঁতার জানা শিশু-কিশোররাই বেশি। অথচ একটু সচেতন হলেই এ রকমের মর্মান্তিক জল-ডুবির ঘটনা রোধ করা সম্ভব  বা কমিয়ে আনা সম্ভব। নদীর যেখানে যেখানে বালি উত্তোলনের জন্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সেই গর্তগুলির চারদিকে খুঁটি দিয়ে লাল কাপড়ের বিপদ সংকেত টাঙ্গিয়ে মানুষকে সর্তক করা সম্ভব। আর এই কাজটি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন বিভিন্ন ভাবে প্রচার চালিয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারে বা সচেতন করে তোলা এক্ষুনি অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে আর যেন অবৈধভাবে কেউ বালু উত্তোলন করতে সক্ষম না হয় সেদিকে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি সর্বদা বিরাজমান থাকবে এই আশা ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ করতেই পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ