• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন |

মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ৪৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত

মোবারকগঞ্জ চিনি কলজাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ভারি শিল্পি প্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ চিনিকলের উৎপাদিত চিনি মিলগেটে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ ও ৫২ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা এ চিনি মিলগেট পার করেই ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে ৬২ টাকা। এক কেজি চিনি মিলের কাছ থেকে ক্রয় করে ১৪ টাকা বেশি মুনাফায় বিক্রি করছে।
তবে সাধারন ভোক্তা আর মিল কর্তৃপক্ষ বলছে রমজান ও ঈদে চিনির ব্যপক চাহিদা থাকার কারণে এই সুযোগ গ্রহন করছে কিছু অসাধু ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে ন্যায্য মূল্যে মিল এলাকার সাধারন ভোক্তাদের হাতে চিনি পৌছে দিতে মিল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পরিবহনে করে ৪৮ টাকা খোলা ও ৫২ টাকা কেজি দরে প্যাকিং করা চিনি খোলাবাজারে চিনি বিক্রি করছে।
এদিকে গত কয়েক বছরে মিলটি অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবথেকে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতর এগিয়ে আসলেও জুন মাসের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি প্রায় ৬শ শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। তবে ক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের ঠেকাতে আপাতত বোনাসের টাকা পরিশোধ করছে মিলটি।এদিকে ঈদের আগেই জুন মাসের বেতন না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা। তারা জুন মাসের বেতন ও সরকার ঘোষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ আখ মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন থাকলেও উৎপাদন হয় ৪ হাজার দুইশত ৩৫ মেট্রিক টন। সর্বশেষ ২০১৫-২০১৬ মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৪ হাজার ১২০ মেট্রিক টন তবে উৎপাদন করে করে ৪ হাজার একশত ২৫ মেট্রিক টন। গত দুই মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত ৮ হাজার ৩শ ৫৯ মেট্রিক টন চিনির প্রায় সবই অবিক্রিত রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।
এদিকে গত কয়েক মাসে ২০১৩-২০১৪ মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত চিনি ও সবেমাত্র শেষ হওয়া আখ মাড়ায়ের চিনি বিক্রি করেছে। তবে সে টাকার সিংহভাই হেড অফিসের দেনা পরিশোর করতে ব্যয় হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের জুন মাসের বেতন দিতে পারছে না মিলটি। মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ৪৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত, মিল পেরিয়ে ৪৮ টাকার চিনি ৬২ টাকা
মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকা কালীগ্েঞ্জর বিশিষ্ট চিনি ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, মিলের তালিকাভুক্ত ডিলার আছে প্রায় ৮০০ জন। স্থানীয় ঝিনাইদহ জেলায় আছে মাত্র ২২ জনের মতো। মিল গেটে চিনির কেজি ৪৮ টাকা হলে একজন ডিলার চিনি পায় মাত্র এক টন।
জেলার ২২ ডিলারের এই চিনি দিয়ে ভোক্তাদের চাহিদা মেটানো একেবারে অসম্ভব। যে কারনে বাইরের ডিলারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিয়ে একটি ডিও কিনে চিনি উত্তোলন করতে হয়। ফলে ৪৮ টাকা এক কেজি চিনির মূল্য হলেও আমরা বেশি দামেই চিনি উত্তোলন করি। তবে তালিকাভুক্ত ডিলাররা ৪৮ টাকা কেজি দরেই মিলগেট থেকে চিনি উত্তোলন করে বলে এই ব্যবসায়ী জানান।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের ভোক্তা ওহিদুল ইসলাম জাানান, শুনেছি সুগারমিলে চিনি ৪৮ টাকা কেজি দরে পাওয়া যায়। কিন্তু আমি কয়েকবার চেষ্টা করে পায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে ৬২ টাকা দরে কেজির চিনি কিনেছি
মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, আমরা হেড অফিসের নির্দেশে স্থানীয় ডিলারদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি করি। কিন্তু রমজান এবং ঈদে চিনির চাহিদা বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্যে ভোক্তাদের কাছে চিনি বিক্রি করছে।
একারণে ন্যায্য মূল্যে মিল এলাকার সাধারন ভোক্তা যেন চিনি কিনতে পারে এজন্য মিলের শ্রমিকরা নিজস্ব পরিবহনে করে ৪৮ টাকা কেজি দরে খোলাবাজারে চিনি বিক্রি করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে আখ মাড়ায়ের মধ্যে দিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু হওয়া এ মিলটি পুঞ্জিভূত দেনা রয়েছে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।
১৯৬৫ সালে হল্যান্ডের স্টর্ক ওয়ার্কস পুওর কোম্পানীর নির্মানকৃত মিলটির প্রতিদিন মাড়াই ক্ষমতা ১৫০০ মেট্রিক টন। ১৮৯.৪০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই মিলটি প্রথম পরীক্ষা মূলক মাড়াই মৌসুম শুরু হয় ১৯৬৭-৬৮ সালে।

ইবি ভিসিকে অব্যাহতি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমানকেও অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ নিশ্চিত করেছেন।
ফ্যাক্স বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮০ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী নিয়োগাদেশের (ক) শর্তানুসারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
তবে এ ফ্যাক্স বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারকে চার বছরের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে, মেয়াদ পূর্তির আগেই কেন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তবে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক দফা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে দুর্নীতি তদন্ত করা হয়। এবং সেখানে তার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানা যায়। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন উপাচার্যের কেউই তাদের মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
এছাড়া উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন দুর্নীতি ও পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগ থাকায় তাকেও অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।

ইবি রক্তদান সমিতির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রক্তদান সমিতির উদ্যোগে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সংবর্ধণা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে শৈলকুপা মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় উক্ত ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি রাজিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরেংজী বিভাগের প্রফেসর মিয়া রাসিদুজ্জামান, ফলিত বিজ্ঞান ও পুষ্টি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিষ্টার ও কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম জোহা, উপ-প্রধান মেডিকেল অফিসার ও কর্মকর্তা সমিতির সদস্য ডা: পারভেজ হাসান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইবি সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি উকিল উদ্দিন, কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমান, ইবি রক্তদান সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোদাচ্ছের খালেক ধ্রুব, দপ্তর সম্পাদক আলামিন খানসহ আরো অনেকে।

শৈলকুপায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের সাঁপখোলা,আশুরহাট ও কন্যেদা গ্রামে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর রাতের আধারে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে শৈলকূপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মফিজ উদ্দিনের সাথে লড়াই করে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমেদ বিজয়ী হন।
এর জের ধরে নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতায় বিজয়ী প্রার্থী ফারক আহমেদের সমর্থক সাপখোলা গ্রামের মজনু, পিরাগাতী গ্রামের রইচ মেম্বর,আমিরুল ও দিঘলগ্রামের জামালের নেতৃর্ত্বে একদল সন্ত্রাসীরা সাঁপখোলা গ্রামের স্বপন, আদিল উদ্দিন খা, মতিন, হান্নান ও আশুরহাট গ্রামের রবিউল, বদরুল আলম বাবলু এবং কন্যেদা গ্রামের দুলাল, কালাম, জামাল, কুদ্দুস এর বাড়ীতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ১০টি বাড়ীঘর ভাংচুর, ৯টি গরু, ২টি ছাগল, ৩টি বাইসাইকেল,স্বার্ণের অলংকার ও  আসবাবপত্রসহ বেশ কিছু মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। বেশ  কয়েকটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে এছাড়া অন্যান্য লুটের মালামাল উদ্ধারের  চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ