• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

মারা যাওয়ার আগে তারিশির ফোন

tarishi20160702124741সিসি ডেস্ক: তারিশি জৈন। ১৯ বছরের তরুণী। ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের সঞ্জীব জৈনের মেয়ে। সঞ্জীব গত ১৫-২০ বছর ধরে ঢাকায় কাপড়ে ব্যবসা করছেন। তারা এখন ঢাকাতেই থাকেন। তারিশি পড়তেন ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। পরে তিনি পড়তে যান বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সম্প্রতি তিনি পরিবারের সাথে সময় কাটাতে এসেছিলেন ঢাকায়। গত পরশু শুক্রবার বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে যান গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে। সেখান থেকে আর তিনি ফিরতে পারেননি। ফিরেছে তার লাশ। সন্ত্রাসীরা জিম্মি করার কিছু সময় পরেই অন্যদের সাথে তাকেও হত্যা করে। তবে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে তার বাবাকে ফোন করেছিলেন।
খুন হওয়ার পূর্বে শনিবার সকাল ৬টার ঠিক আগে বাবা সঞ্জীব জৈনকে ফোন করতে সক্ষম হয়েছিল তারিশি। ফোনে বাবাকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ও খুন হওয়ার আগ মুহূর্তে নিজের অবস্থা জানাতে পেরেছিল সে। ঘটনার সময় হলি আর্টিসান বেকারির এক টয়লেটে লুকিয়ে তারিশি ও তার বন্ধুরা বাঁচার চেষ্টা করেছিল বলে তার চাচা রাকেশ মোহন জৈন জানান।
তারিশির ফোনকল উদ্ধৃত করে রাকেশ জৈন বলেন, ‘আমি [তারিশি] খুবই ভীত সন্ত্রস্ত এবং জীবিত বেরিয়ে আসতে পারবো কিনা এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। তারা এখানকার প্রত্যেককে হত্যা করছে।’ ফোনে তারিশি আরো বলেছিলেন, ‘বন্ধুদের নিয়ে আমি একটি টয়লেটে লুকিয়ে আছি। আমাদের একে একে হত্যা করা হবে বলে মনে হচ্ছে।’ বাবাকে ফোন করার কিছু সময় পরই অর্থাৎ শনিবার ৬টার কিছু আগ থেকেই তারিশির মোবাইল ফোনটিতে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না।
তারিশি জৈন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্থনীতিতে স্নাতক পড়ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের মাধ্যমে ঢাকার ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে ইন্টার্নশিপ করারও সুযোগ পেয়েছিল সে। কয়েক সপ্তাহ সে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ইন্টার্নশিপও করেছে। ঢাকায় বাবা-মার সঙ্গে থেকে শেষ ধাপে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়ে পৃথিবী থেকেই চিরবিদায় নিতে হলো তাকে।
এদিকে, তারিশিকে ভারতেই সমাহিত করা হবে বলে তার চাচা রাকেশ মোহন জৈন জানিয়েছেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা তাকে সেই ভূমিতে সমাহিত করতে চাই না যেখানে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হলো। হিন্দু বলে সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করলো।’
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ