খুরশিদ জামান কাকন: ঈদ মানেই দুঃখ-বেদনা ভুলে গিয়ে হাসি-খুশি, আনন্দ-উৎসবে মেতে থাকা। পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বৃহৎ উৎসব। আসছে ঈদ উপলক্ষে বাজারের বিপণি-বিতান গুলোতে বেড়েছে মানুষের নতুন কাপড় বেচাকেনার হিড়িক। ঈদে নতুন পোশাক পরিধান করার পাশাপাশি বাঙ্গালি কিশোরী-তরুণী-রমণীরা নিজেকে আরো বেশী ঈদের সৌন্দর্যে সৌন্দর্যময় করার লক্ষে প্রিয় শখ হিসেবে নিজেকে মেহেদী রঙে রাঙিয়ে তুলে। তবে এদিক দিয়ে যে শুধু মেয়েরাই এগিয়ে তা কিন্তু নয়। বর্তমানে ছেলেরাও মেহেদী রঙে নিজেকে রাঙাতে পছন্দ করে। আর সেই উপলক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের মাত্রাটা আরেকটু বাড়িয়ে দেয়ার লক্ষে সৈয়দপুরবাসীকে মেহেদী রঙে রাঙাতে সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠ সংলগ্ন সার্গাম স্কুলে শুরু হয়েছে তিন দিন ব্যাপী মেহেদী উৎসব। এতে চরুকলা বিভাগ থেকে আগত কারিগর দ্বারা সুনিপুণ ভাবে মেহেদী রঙে রাঙিয়ে তুলা হচ্ছে কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুনীর হাত। এছাড়াও রয়েছে সুলভ মূল্যে চা, কোল্ড কফি, জুশ, ফ্যালুদা সহ নানান বাহারি খাবার সামগ্রীর ব্যবস্থা। গত ০৩ জুলাই সৈয়দপুর ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেহেদী উৎসবের উদ্ভোদন করেন। মেহেদী উৎসব কমিটির অন্যতম সদস্য আরমান চৌধুরী লিমনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা সৈয়দপুরবাসীর ঈদের আনন্দের মাত্রাটুকু আরো একটু বাড়িয়ে দেয়ার লক্ষে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। অনেকেই নিজের হাত মেহেদী রঙে রাঙাতে চান কিন্তু পারেন না অভিজ্ঞ কারিগরের অভাবে। আমাদের এখানে স্থানীয় কারিগরের সাথে বহিরাগত কারিগর দ্বারা সুনিপন ভাবে মেহেদী লাগানো হয়। এছাড়াও আমাদের এখানে মনোরম পরিবেশে মেহেদী রঙে নিজেকে রাঙানোর পাশাপাশি রয়েছে সুলভ মূল্যে বাহারি রকমের খাবার সামগ্রী। সবমিলিয়ে বলা চলে আমাদের এই মেহেদী উৎসব আসছে ঈদ উৎসবের আগাম বার্তা। মেহেদী উৎসবে মেহেদী লাগাতে আসা কয়েকজন তরুণীর সাথে কথা হলে তারা জানান, এখানে উৎসব মুখর পরিবেশে মেহেদী লাগানো হয়। তারা সৈয়দপুরে এরকম ব্যতীক্রমধর্মী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে পরব্রতিতে বিভিন্ন উৎসবের প্রস্তুতি স্বরুপ “মেহেদী উৎসবের” পুনরাবৃত্তি দেখতে চায়।