চাঁদপুর প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকে এখনো হাজারো মানুষের ঢল নামে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থল বড় স্টেশন। ঈদের দিন এবং তার পরের তিনদিন বড় স্টেশন মোলহেডে সব বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিলো চোখেপড়ার মতো। এদিকে মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বড়ষ্টেশন মোলহেডে পুলিশি নিরাপত্তা ছিলো জোরদার। বিকাল ৫ টার পর থেকে কোন মানুষ ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। অন্যদিকে দেখা গেছে জীবনের ঝুকি নিয়ে ইঞ্জন চালিত নৌকা ও ট্রলারে করে সাউন সিস্টেম বাজিয়ে মেঘনা ডাকাতিয়া নদীতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে। বাবা মায়ের সাথে নানান বয়ষের শিশুরা মোলহেডে ঈদ আন্দন্দে মেতে উঠে। শহরের বাইরের উপজেলাগুলো থেকে মিটি পিকাপ ভ্যানে করে কিশোর ও যুবকরা নতুন পোশাক পরে ছুটে আসে বড়স্টেশন মোলহেডে।
চাঁদপুরের একমাত্র পর্যটন কেন্দ্র তিন নদীর মিলনস্থল বড় স্টেশন মোলহেডে গিয়ে দেখাযায় ঈদের দিন বিকেলে চাঁদপুর শহর এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মোহনার চারপাশে ছিলো ছোট বড় অসংখ্য মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ঘুরতে এসেছেন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। কেউ কেউ তাদের ভাই, ভাবি, ভাতিজী ,বোন, ভাগিনা , ভাগ্নি কিংবা কেউ তাদের প্রিয়জনকে নিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনটি নদীর মিলনস্থলে ঘুরে ফিরে সময় কাটাতে দেখা যায়। বিভিন্ন মানুষের উপস্থিতিতে সেখানে সৃষ্টি হয় এক মহা মিলন মেলা। সেখানে নাগর দোলা এবং চরকী ঘোড়া থাকায় শিশুরা সেগুলিতে চড়ে আরো বেশি আনন্দপায়। আবার কেউ কেউ নিজস্ব ক্যামেরা কিংবা মুঠোফোনে বিভিন্ন রঙে ঢঙে সেলফি তুলে ঈদে অনেক আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়।
হিন্দু সম্পদায়ের আষাঢ়ের রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত
চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির কমিটি আষাঢ়ের জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। ৬ জুলাই সকালে গুন্ডিচা মন্দির মার্জন, জগন্নাথ দেবের নেত্রোৎসব, চৈতন্য চরিতামৃত পাঠ, রথ যাত্রা অধিবাস কীর্ত্তন, মঙ্গল আরতি, দর্শন আরতী ও গুরু পূঁজা, চৈতন্যচরিতামৃত পাঠ, অগ্নিহোর যজ্ঞ, ধর্ম আলোচনা সভা ও বিকেলে রথ যাত্রার উদ্বোধন করেন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: প্রদীপ কুমার দত্ত। জগন্নাথ মন্দির কমিটির সভাপতি চাঁদপুরচেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর ভূমি কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়–য়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান, চাঁদপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মিহির লাল সাহা, কালি বাড়ি মন্দীর কমিটির সহ সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তি, তমাল কুমার ঘোষ, গোপাল সাহা সহ আরো অনেকে।পুরাণ বাজার জগন্নাথ মন্দীর থেকে রথ যাত্রাটি টেনে চাঁদপুর নতুন বাজার কালি বাড়ি মন্দীরে আনা হয়েছে। এ মন্দীরে সপ্তাহব্যাপি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৭ জুলাই দুপুরে চৈতন্যচরিতামৃত পাঠ, স্কন ভক্তবৃন্দের আরতী কীর্তন, রাতে বৈদিক নাটক জগন্নাথ দেবের প্রকাশ, পরিবেশনায় ছিলেন- অনুপম নাট্য গোষ্ঠী, চাঁদপুর। ৮ জুলাই কৃষ্ণতত্ত্ব বিষয়ক আলোচনা সভা,পাঠক করেন নারায়ন দাস , সেবায়েত রাধা গোপিনাথ মন্দির সাতক্ষিরা । রাতে ভগবত পাঠ । ৯ও ১০ জুলাই দুপুরে জগন্নাত লীলামৃত পাঠ করবেন দ্বীনকৃষ্ণ দাস , খুলনা । ১১ ও ১২ জুলাই দুপুরে রাধাতত্ত্ব বিষয়ক আলোচনা করেন ভবানন্দ দাস বাবাজী মহারাজ , অধ্যক্ষ নিতাইগৌর রাধাবিনোধ সেবা আশ্রম মাগুরা । ১৩ জুলাই বিকাল ৪টায় উল্টো রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একই দিনে নতুন বাজার গোপাল জিউর আখড়া থেকে রথযাত্রা বের করা হয়। এ রথটি শহর প্রদক্ষিন করে মেথা রোডস্থ দূর্গা মন্দীরে গিয়ে শেষ হয়।