ঠাকুরগাঁও : শোলাকিয়ায় ঈদের দিন পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক শফিউল আলম পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলার আসামি। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন যজ্ঞেশ্বর হত্যায় শফিউলের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল।’
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। দেবীগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালত গত ২৮ জুন অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আইয়ুব আলী জানান। অভিযোগপত্রে ছয়জনকে পলাতক ও চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, মোটরসাইকেলে করে যে তিনজন মঠে আসে, তাদের মধ্যে শফিউলও ছিলেন। শফিউল আগের দিন রাতে এসে স্থানীয় জঙ্গি ও ওই মামলার পলাতক আসামি দেবীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব দেবীডুবা গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. রানার বাড়িতে রাত যাপন করেন। এই বাড়ি থেকেই মোটরসাইকেলে করে মঠে গিয়ে হামলা চালানো হয়।
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন বলেন, যজ্ঞেশ্বর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও পুরো ঘটনাটির রহস্য খুব কম সময়ের মধ্যে উদ্ঘাটন করা হয়েছে। জড়িত ১০ জনের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছয়জন পলাতক রয়েছে। এর মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শফিউল নামে একজনের নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শোলাকিয়ায় আটক শফিউলই যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলার আসামি শফিউল।
উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় দেবীপঞ্জ উপজেলার শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠে গিয়ে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর চন্দ্র রায়কে (৫০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে চারুজনকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। ঈদের দিন শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনার পর পুলিশ জানতে পারে আটক শফিউল আলম পলাতক ছয়জনের একজন।