ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইট ভাটার মালিকেরা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। রাতারাতি কয়লার মূল্য বৃদ্ধি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কয়লা বিক্রি। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্তৃপক্ষ বারবার কয়লা বিক্রিতে বিভিন্ন সিন্ডিকেট তৈরি করে কয়লা বিক্রি করছেন। গত ১১ জুলাই সোমবার থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে কয়লার দাম বাড়ানো নিয়ে। এ সময় কয়লা খনি প্রকল্পের কতিপয় ব্যক্তি তাদের গোপনীয় তথ্য বাহিরে ফাঁস করে দেওয়ার কারণে গত ১২ই জুলাই সকাল থেকে ইট ভাটার মালিক ছাড়াও বিভিন্ন পেশার লোকজনকে গোপনে খবর দিয়ে কয়লা ক্রয় করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পূর্বে কয়লা বিক্রয়ের মূল্য ছিল টন প্রতি ৮ হাজার ৩০৫ টাকা এরই মধ্যে হঠাৎ করে কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ কোন বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কয়লার মূল্য বৃদ্ধি করে । যা গোপন রাখা হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হলেই মূল্য বৃদ্ধির কথা প্রকাশ করা হবে। পূর্বের মূল্যই ৭৫ জনের নিকট কয়লা বিক্রি করেন। তারাই একমাত্র কয়লা ক্রেতা। এর মধ্যে হোটেল ব্যবসায়ী, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের হোমড়া চোমড়া, ইট ভাটা নাই এমন কিছু লোকজন ও বিভিন্ন বহিরাগতদের মাঝে এই কয়লা বিক্রিয় করা হয়।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক মোঃ আবুল কালাম জানান, গত ১২ই জুলাই সোমবার সরাসরি খনি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কয়লা ক্রয়ের বিষয়ে কথা বললে তিনি কয়লা না দিয়ে সাফ জানিয়ে দেন কয়লা মজুদ নাই শেষ হয়ে গেছে।
অপরদিকে নিলফামারী জেলার সৈয়দপুর শিল্পনগরী উপজেলার ইট ভাটার মালিকদের পক্ষে মোঃ মোস্তফা ফিরোজ অভিয্গো করে বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টায় কয়লা খনির গেটে গিয়ে কয়লা ক্রয়ের জন্য ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলে সৈয়দপুর উপজেলার এমবিএফ ব্রিকস্ এর মালিক, বিবিএম ব্রিকস্ এর মালিক জেবিএম ব্রিকস্ এর মালিক এসকে ব্রিকস্ এর মালিক এমবিবি ব্রিকস্ এর মালিক কয়ল কিনতে গিয়ে ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ায় নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন। তারা অভিযোগ করেন প্রকৃত ইটভাটার মালিক হয়েও তারা কয়লা কিনতে গিয়ে ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার কারণে ফিরে আসে।
কয়লা বিক্রির দূর্নীতির বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুজ্জামান এর সাথে গতকাল বুধবার মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, কয়লা বিক্রয়ের কোন সিন্ডিকেট করা হয়নি। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কয়লা দেওয়া হয়েছে। কয়লা বিক্রি নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে গত ২ দিন ধরে বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ। অনেকে জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যেকোন সময় বদলী হয়ে যেতে পারেন। এ কারণে কয়লা বিক্রির সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কয়লা বিক্রির ঘটনা নিয়ে খনি এলাকায় চলছে তোলপাড়। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহল বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালায়ের মাননীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।