• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন |

রাজারহাটে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গীর্জায় রহস্যজনক আগুন

Rajarhat News Pic16-07-2016 (1)রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গীর্জায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কে বা কাহারা আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপির সুলতান বাহাদুর (রায় পাড়া) এলাকায় লালমনিরহাট খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মিশন কর্মকর্তা তপন বাবুর অধীনে গীর্জাটিতে প্রতি রোববার ১২টি পরিবারের শিশুদের ধর্মীয় পাঠদান পরিচালিত হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে পথচারীরা ওই গীর্জায় আশ্রয় নেয়, গীর্জার দরজা-জানালা না থাকায় স্থানীয়রা গীর্জার ভিতরে শুকনো পাট খড়ি থাকায় আশ্রয় নেয়া পথচারীদের বিড়ি সিগারেটের আগুন দিয়ে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটতে পারে। স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণকারী বেলী বালা (৬৫) জানান, পুর্বে এখানে অনেক পরিবার ছিল। এখন আমি একাই গীর্জাটির রক্ষণা-বেক্ষণ করে আসছি। সপ্তাহের প্রতি রোববার এ গির্জায়  ১২টি পরিবারের শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী বেনজির আহমেদ জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ও রাজারহাট উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক রবীন্দ্র নাথ কর্মকার বলেন, আমাদের তালিকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওই গীর্জাটি নেই। এই প্রথম জানলাম এবং ঘটনাস্থলে এসেছি। মিশন কর্মকর্তার মুঠোফোনে কথা হলে তাকে আমি ৩ দিনের মধ্যে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলেছি, গীর্জার পরিবেশ একদম অরক্ষিত। হঠাৎ দেখলে মনেই হবে না এটি কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে লালমনিরহাট মিশন কর্মকর্তা তপন বাবুর ০১৮১৯৬৬২২৫২ নম্বরের তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ১৯৮৭ সনে সুলতান বাহাদুর (রায় পাড়া) এলাকায় তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিদাসের নেতৃত্বাধীন ওই গীর্জাটি ৬ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয়। বর্তমানে আমি ঢাকায় আছি, ঘটনাটি শুনেছি। রাতেই ঘটনাস্থলে লালমনিরহাট থেকে আমাদের মিশনের লোকজনের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লালমনিরহাট পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ায় যাওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রশিদ বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওই স্কুলটির ভেতরে কিছু শুকনো পাট খড়ি এবং ভুট্টার ডালপালা ছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে পথচারীরা ওই স্কুলটিতে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়া পথচারীদের বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, থানায় একটি সাধারণ ডাইরি দায়ের করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ