সিসি নিউজ: জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বব্যাপী এ সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সেখান থেকে বাংলাদেশও রেহাই পায়নি। আগে ধারণা ছিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই জঙ্গিবাদে জড়িত। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা থেকে দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরাই ভয়ংকর জঙ্গি হয়ে উঠছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এই মতবিনিময় সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটি গঠনসহ ১২ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য জরুরি বলেও অভিমত দেন বক্তারা। শিক্ষক নিয়োগের পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রস্তাবসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও পরিবার—যার যতটুকু ভূমিকা এর সবটুকুই যথাযথভাবে পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বিশাল মিলনায়তন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, উপাচার্য ও অধ্যক্ষরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ১২টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সেগুলো হচ্ছে—প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটি থাকতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেসব স্থানে জঙ্গিবাদ নিয়ে বৈঠক হতে পারে সে জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়াতে হবে। মসজিদে বা নামাজের স্থানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারবে না। শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত হলে অবশ্যই অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। লাইব্রেরিতে জঙ্গিবাদের কোনো বই-পুস্তক থাকলে তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে হবে। একাডেমিক কার্যক্রমেও জঙ্গিবাদবিরোধী বিষয় থাকতে হবে। নিয়মিতভাবে বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চা থাকতে হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে। অপরাধে জড়িত বলে সন্দেহ হলেই কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদবিরোধী গবেষণা হতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘জঙ্গিরা মানবতার বিরুদ্ধে হামলা করছে। তারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আর এ কাজে তারা প্ররোচিত করছে তরুণদের। প্রথমে তাদের মোটিভেট করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর কোরআনের কিছু সুরার খণ্ডিত অংশ বিকৃত করে জিহাদের নামে বেহেশতে যেতে পারবে বলে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে। আর এ ধরনের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। তাদের এই পথ থেকে ফেরানোর দায়িত্ব আমাদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাঁরা আছেন তাঁদের দায়িত্ব নজরদারি করার। নতুন কাউকে যেন জঙ্গিরা রিক্রুট করতে না পারে সে বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে। সন্তানরা যেন বিপথে না যায় সে জন্য পরিবারকেও দায়িত্ব নিতে হবে। মূলত যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। কে সন্ত্রাস করল, কে কোন দলের বা মতের সেটা বড় কথা নয়। তাদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চাই। এ জন্যও সকলের সহযোগিতা দরকার।’
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই বন্ড সই দিয়ে ঢুকতে হয়—ছাত্ররাজনীতি করা যাবে না। জয় বাংলা স্লোগান দিলে বহিষ্কার করা হয়। আজকের প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে হবে। একজন ছাত্র যদি বঙ্গবন্ধুকে না জানে, বাংলার সংস্কৃতি না জানে তাহলে সে জঙ্গিবাদে যুক্ত হতে বাধ্য।’
ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাত্র রাজনীতিমুক্ত বলা হচ্ছে। আসলেই কি তাই? সেখানে সরব রাজনীতি নেই, নীরব রাজনীতি আছে। আর নীরব রাজনীতি মানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজবুত তাহরীরের অস্তিত্বই এর প্রমাণ।’
স্কলাসটিকা স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাউছার আহমেদ বলেন, ‘আমাদের স্কুলে উদারপন্থায় পড়ালেখা করানো হয়, হতে পারে এটা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল। জঙ্গিবাদ দমনে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এর সবকিছুই আমাদের স্কুলে আছে। তার পরও কেন জঙ্গিবাদ? আসলে জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। একজন ছাত্র শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই থাকে না। তার পরিবার আছে, বাইরের জগৎ আছে। সমাজ বা পরিবারের কোথায়ও একটা ফাঁকফোকর রয়েছে, যা চিহ্নিত করে আমাদের এগোতে হবে।’
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ বা ক্যাফেটরিয়ায় স্পেশাল মোটিভেশন চলে। ক্লাসের আগে বা পরে এই মোটিভেশন দেওয়া হয়। এটা খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের সবার সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় এখন ইমেজ সমস্যায় ভুগছে। পত্রপত্রিকায় আমাদের সাবেক-বর্তমান ছাত্র-শিক্ষকদের নাম আসছে। আমি কোনো কিছু অস্বীকার করার পক্ষে নই। সমস্যা সমাধানে সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমরা এই ক্যান্সারের অপারেশন করে ফেলব। ইতিমধ্যে লাইব্রেরি পরিষ্কার করা হয়েছে, কম্পিউটার ল্যাবও পরিষ্কার করা হয়েছে। শিক্ষকদের রি-অরিয়েন্টেশন দেওয়া হচ্ছে। ভালো কাউন্সেলিং সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদেও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে, মনে হয় আমাদের থেকে বেশি সিসি ক্যামেরা অন্য কোথাও নেই। একজন শিক্ষকের অধীনে ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকবে। শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কী কী খেয়াল রাখতে হবে। তবে আমরা যাঁরা শিক্ষকতা করি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাই তাঁরা এসব বিষয়ে এক্সপার্ট নই। সরকারের যেসব অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আছে তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করব। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘তবে ছেলেমেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে নিজের রুমটা বন্ধ করে ল্যাপটপে কী কী করে তা খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদেরই। দয়া করে দরজা বন্ধ করতে দেবেন না। বাড়িতে অভিভাবকরা দেখবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখব আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো আছেই। সমন্বিত এই চেষ্টায় সাফল্য আসবেই।’
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী শিক্ষক নিয়োগের পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রস্তাব করেন।
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা এখন একটা ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। তাহলে যাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন তাঁরা কী শিক্ষা দিচ্ছেন? যদি মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয় তাহলে কেন তারা মানুষ হত্যা করবে? আমরা কারো বিরুদ্ধে অঙ্গুলি নির্দেশ করতে চাই না। আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে ইঞ্চি ইঞ্চি খুঁজে ওই জঙ্গিদের বের করা সম্ভব। আর যারা বিপথে গেছেন তাঁরা ফিরে আসুন; রাষ্ট্র ও সমাজের যা কিছু করা দরকার তা করবে। একজন শিক্ষক কিভাবে তাঁর বাড়ি জঙ্গিদের ভাড়া দেন আর সেই শিক্ষককে কিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রিক্রুট করে সেটাও ভাববার বিষয়।’
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘যেভাবেই হোক না কেন আমাদের সন্তানরা এমন কিছু করছে তাতে জাতির মুখে কালি লাগছে। এসব কখনোই আমরা কল্পনা করতে পারিনি। স্বাধীন, সার্বভৌম দেশে এসব গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ থাকতে হবে। তাহলে সহজে একজন শিক্ষার্থী বিপথে যেতে পারবে না। আর প্রথমে বন্ধুর মতো থেকে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তাতে কাজ না হলে শক্ত হতে হবে।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রতিপালন করব— আজকের অনুষ্ঠানে আমি এই অঙ্গীকার করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘জঙ্গিবাদ একটা প্রজন্মের সমস্যা। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু ইউনিক সমস্যাও রয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপাচার্যকে বেতনভোগী কর্মচারি হিসেবে দেখেন। বোর্ডের অনেক সদস্য নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকেও পাত্তা দেন না। অনেকেই সিন্ডিকেট মিটিং করেন না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেই ফেলেছেন, জঙ্গিবাদ একটি প্রতিবাদের ভাষা। তাহলে তাঁদের কাছ থেকে আর কী আশা করা যায়? আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে সাদা চামড়ার শিক্ষক আনলে মনে হয় ব্র্যান্ডিং হবে। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিদেশিদের দিয়ে পড়ানো হয়। এভাবে তো চলতে পারে না।’
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু নামধারী শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা জঙ্গিবাদের মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়ে সামাজিক চেতনা গড়ে তুলতে হবে, সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যারা ঐক্যবদ্ধতার বিরোধী, মানবতাবিরোধী ও জঙ্গিবাদের পক্ষে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। একঘরে করতে হবে। আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। জনে জনে যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কথা ও শর্ত শুনবেন না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানবেন না তাদের থাকার অধিকার নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হুঁশিয়ার করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্পষ্ট ভাষায় বলছি, কথা রাখবেন না, কথা শুনবেন না, ওয়াদা করা শর্ত পালনের চেষ্টা করবেন— না তাহলে থাকতে পারবেন না। গুটিয়ে নিতে হবে। এ দেশে শিক্ষার্থীদের রয়েছে অতীত ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য কলঙ্কিত করতে দেওয়া যাবে না। এ দেশের কোনো শিক্ষার্থী জঙ্গিবাদে যাতে আর জড়াতে না পারে সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী সবাইকে সচেতন হতে হবে। পুলিশ জীবন দিয়ে জঙ্গিবাদী তৎপরতাকে রুখে দিচ্ছে। তাহলে আমরা কেন বসে থাকব?’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদের একটি নতুন জায়গায় উপনীত হয়েছি। তবে সবার মতামত নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। স্কলাসটিকা, নর্থ সাউথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন এসব হচ্ছে, গলদ কোথায়? আমাদের ছেলেমেয়েরা বিপথগামী হোক তা আমরা চাই না। আমার সন্তানও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। মেয়ের মুখে গ্রুপ সিটিংয়ের কথা শুনলেও বিশ্বাস করিনি। একসময় স্কলাস্টিকা স্কুল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা শুনলে মাথা উঁচু হয়ে যেত। এখন মাথা হেঁট হয়ে যায়। জঙ্গিবাদে যুক্ত তরুণের সংখ্যা কম। যারা নিখোঁজ আছে তারা কে কোথায় আছে, সে সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আছে। আমরা কঠোর হতে চাই না। আমরা বিপথগামীদের বলব, তোমরা ফিরে এসো। যেসব জঙ্গি নিহত হয়েছে তাদের মৃতদেহ পর্যন্ত অভিভাবকরা নিতে আসেনি। পিতা-মাতা সন্তানদের ঘৃণা করছে।’
মতবিনিময়ে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. এনামুল হক শামীম, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মেহেদী হাসান প্রামানিক, ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।