খুরশিদ জামান কাকন: চলতি অর্থ বছরে বর্তমান সরকার দেশের ১৯৯ টি কলেজ জাতীয় করনের আওতায় আনলেও তালিকায় এবারেও স্থান মিলেনি উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহি প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর কলেজের। সৈয়দপুর কলেজ প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর বয়স পার করতে চলছে। অথচ প্রতিটি সরকারের আমলেই এটি সরকারী করণের প্রতিশ্রুতি শুনেছে সৈয়দপুরবাসী। বর্তমান সরকারের বিগত সময়ে এলাকার সাংসদ কর্নেল (অব.) এ, এ মারুফ সাকলান জাতীয় সংসদে সৈয়দপুরকে জেলা ঘোষণাসহ ওই কলেজটি সরকারীকরণের দাবি তুলেছিলেন। দাবির জবাবে সংসদ নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলার সকল সুযোগ সুবিধা সৈয়দপুরবাসী পাবেন বলে ঘোষণা দেন। তারপরও সৈয়দপুর কলেজ সরকারী হলো না।
শ্রমিক অধ্যুষিত এ জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সন্তানদের শিক্ষিত করার মানষে ১৯৫৩ সালে ৪০ বিঘা জমি নিয়ে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় শহরের কুন্দল এলাকায়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিটি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফল করে আসছে। সকল গুণে গুণাবিত হয়েও বরাবরই সরকারের নেক দৃষ্টির বাইরে থাকছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি ৬৪ বছরেও পূরণ হলো না। কিন্তু কি কারণে বার বার রাজনীতির বলি হচ্ছে এ কলেজটি, এ প্রশ্ন এখন সচেতন মানুষের মুখে মুখে। অথচ জেলার ডিমলা মহিলা কলেজের যাত্রা শুরু হয় ২০০৫ সালে। কিন্তু এটি এ বছরই সরকারী করা হলো।
জেলার বিশিষ্টজনরা জানান, সৈয়দপুর কলেজের অবকাঠামো, স্থাবর সম্পদ ও শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মানে জাতীয়করণ করা আশেপাশের জেলা-উপজেলার কলেজ গুলো এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ঢের গুণ পিছিয়ে। তারপরও সৈয়দপুর কলেজ সরকারীকরণ হলো না। এনিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন ওই কলেজের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম। তারা বলেন, এটি অত্রাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কলেজ। সরকারী হবে এই আশায় অন্য কলেজ থেকে চাকুরী ছেড়ে এ কলেজে যোগ দেই। কিন্তু সেই আশা আজ গুঁড়ে বালি।
প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে সৈয়দপুর কলেজের ক্যাম্পাস। মোঘল স্থাপত্যের আদলে ই(ঊ) টাইপের দ্বিতল কলেজ ভবনটির অবস্থান প্রায় পাঁচ বিঘা জমির ওপর।
একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৩২টি বিশাল আয়তনের শ্রেণি কক্ষ রয়েছে। নীচতলায় বিজ্ঞানাগার, অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের কার্যালয়, অফিস, শিক্ষক বিশ্রামাগার, লাইব্রেরী, বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানদের অফিস এবং মেয়েদের কমনরুম রয়েছে।
এছাড়াও কলেজ ভবনের সামনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার, আব্দুর রহিম স্মৃতিফলক, ছেলেদের কমনর“ম, বাইসাইকেল স্টান্ড ও দেশি বিদেশি ফুলের বাগান। অবশিষ্ট ২০ বিঘা জমি রয়েছে শিক্ষক কর্মচারীদের আবাসন সুবিধার জন্য।
একাধিক বিশিষ্টজনদের অভিমত, এই কলেজটি সরকারীকরণ করা হলে সরকারের বাড়তি ব্যয়ের যেমন প্রয়োজন পড়বে না, তেমনি হাজার হাজার সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থী যৎসামান্য খরচে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। বর্তমানে এই কলেজে দুই হাজার ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। পাঁচ বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। উদ্ভিদবিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিষয়ে সম্মান শ্রেণিতে অধ্যায়ন করছে ৫৯১ জন শিক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রী (পাস) শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৮৪৩ জন। শিক্ষক কর্মচারী আছে ৫৯ জন। এর মধ্যে অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ পদে দুইজন, সহকারী অধ্যাপক ৯ জন, প্রভাষক ২৪ জন, শরীরচর্চা শিক্ষক একজন, প্রদর্শক তিনজন, লাইব্রেরিয়ান একজন, সহকারী লাইব্রেরিয়ান একজন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী চারজন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৪ জন রয়েছে। সৈয়দপুরের বিশিষ্টজনেরা, সরকার ও শিক্ষামন্ত্রনালয়ের সুনজর কামনা করে অবিলম্বে উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় করন করার দাবী জানায়।।