• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে তিস্তায় ব্যাপক ভাঙ্গন

Picture from nilphamari 20-07-2016-1,liliবিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৫৪ বছর বসবাস করার পর তিস্তার ভাঙ্গনে জমি জিরাতসহ বসতভিটা তিস্তার ভাঙ্গনে বিলিন হওয়ার পর তিস্তা অববাহিকার বাসিন্দারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে তিস্তার ক্যাঞ্জার ড্যামে আশ্রয় নিয়েছে। একদিকে বসতভিটা ভেঙ্গে নিঃস্ব পরিবারগুলো বাধে আশ্রয় নেয়ার সময় বৃষ্টির কবলে পড়ে নিদারুন কষ্ট ভোগ করছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ বানবাসির মাঝে যৎ সামান্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির পটসহ প্রয়োজনীন উপকরন বিতরন করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার জেডএ ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বন্যা দুর্গত এলাকায় এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার কাজ করছে।

পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের মৃত আকবর আলী পুত্র বুধা মন্ডল জানান, দীর্ঘ ৫৪ বছর বসবাস করার পর সর্বনাশা তিস্তা আমাগোর জমি জিরাত সব শ্যাস কইরা দিলো, একই দিনে পথের ফকির বানায় দিলো। এলাকার অনেকেই জানান, তিস্তা আমাগো পথের ভিখারী বানায়ে দিল। গত দুই দিনে তিস্তার ক্যাঞ্জার ড্যামে ৪০টি পরিবার আশ্রয় নেয়। একতার বাজার সংলগ্ন দিঘীর পাড়ের মৃত্যু সয়ন আলী পুত্র মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমার নিদারুন কষ্টে আছি। আমাগোর ভিটামাটি নিমিষেই তিস্তা বিলিন করে দিল। একই এলাকার মৃত মইমুদ্দিনের স্ত্রী সুরতন বেওয়া (৫৫) জানান, তিনমাস আগে পুত্রটারে বাড়ির ভিটায় কবর দিছি। বন্যার তার কবরটিও লইয়া গ্যাছে, বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ৬জনের সংসার এখন কিভাবে চলবে বলে। স্বামীটা মরার পর স্বামীর কবরের পাশে পোলাটার কবর দিছিলাম কিন্তু বন্যার সব শেষ হইয়া গেল।

এ ব্যাপারে টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে আসার সাথে সাথে চরখড়িবাড়ী ঝিঞ্জিরপাড়া, টাবুর চর, একতার বাজারসহ সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েকশত হেক্টর জমি, স্কুল পুল কালভার্ট বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজউিল করিম বলেন, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী ও টাবুর চরের ২৮১টি ও খালিশা চাপানী ইউনিয়নের খোকার চরের ২৩টি পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের জন্য ৬ হাজার করে টাকা ও ২ বান্ডিল ঢেউটিনের প্রস্তার মন্ত্রানালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্যদের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জাকীর হেসেন জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সার্বক্ষনিক খোজ খবর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ