• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন |

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

Kurigram_Flood 21কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তা ও দুধকুমারের পানিও। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজীবপুর, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার দেড় শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার্ত এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সদর উপজেলার চর পার্বতীপুর গ্রামের আহেলা বেগম জানান, তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। বন্যা আসায় হাতে কোনো কাজ নেই। ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক দিন কাটছে। একই চরের বাসিন্দা আবদার বলেন, ‘ঘরে খাবার নাই, কাজেও যেতে পারছি না। কেউ এখন পর্যন্ত খোঁজখবর নেয়নি। খুব কষ্টে আছি।’  জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও তা এখনো বিতরণ করা হয়নি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান নুরুল আমিন বলেন, ‘আমাদের কাছে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ টাকা মজুত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরো ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা চেয়েছি। আশা করছি দ্রুত পেয়ে যাব। বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’ কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা ও দুধকুমারের পানি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ