• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটের হামলা

saidpur,21-07-2016সিসি নিউজ: সৈয়দপুরে কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়েছে এক বখাটে ও তাঁর পরিবার সদস্যরা। এতে ওই কলেজ ছাত্রীর মা-বাবা আহত হয়েছে। বাম হাতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত মেয়ের মা আহত মোছা. রুবি বেগমকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহরের কাজীরহাট পানির ট্যাঙ্ক এলাকায় গত ১৮ জুলাই বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহসান হাবিব অভিযোগে বিষয়টি তদন্ত করেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে জানা গেছে, শহরের কাজীরহাট পানির ট্যাঙ্ক এলাকায় রিকশা চালক মো. ইয়াকুব আলীর মোছা. নাদিরা আফরোজ (২০)। সে নীলফামারী সরকারী কলেজে দর্শন বিষয়ে অনার্সে অধ্যয়ন করছে। ওই পড়ুয়া মেয়েকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রায় উত্ত্যক্ত করে আসছিল প্রতিবেশি তফুর আলীর বখাটে ছেলে বাংরু (২০)। উত্ত্যক্তের শিকার মেয়ের মা মোছা. রুবি বেগম ঘটনাটি সৈয়দপুর পৌরসভার ১০নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ বখাটের বাবা-মাকে একাধিকবার জানান। কিন্তু তারপরও ওই বখাটের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা বন্ধ হয়নি। বরঞ্চ আগের তুলনায় তার উত্ত্যক্তের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এদিকে, পৌর কাউন্সিলরসহ অভিভাবকের কাছে অভিযোগ করায়,ওই কলেজ ছাত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বখাটে বাংরু। ঘটনার দিন গত সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বখাটে বাংরু কলেজ ছাত্রীর ভাড়া বাড়িতে এসে কেন তাঁর পরিবারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা জানতে চায় ? এ সময় কথা বলার এক পর্যায়ে বখাটে ওই কলেজ ছাত্রীর ওপর চড়াও হয়। পরে বখাটের বাবা-মা ও বড় ভাই বাবুসহ বেশ কয়েকজন লাঠি, ছোরা ও লোহার রড নিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে যোগ দেয়। তারা কলেজ ছাত্রীর ভাড়া বাড়ির ঘরের বেড়া, আসবাবপত্র ও রান্নার চুলা ভাংচুর করে। এ সময় কলেজ ছাত্রী ও তাঁর বড় বোনকে টানাহেঁচড়া করে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটানো হয়। এ সময় তারা লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট  করতে থাকে। এতে লোহার রডের আঘাতে কলেজ ছাত্রীর অসুস্থ বাবা ইয়াকুর আলী প্রামানিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় ও মা রুবি বেগমের বাম হাতের কনুই ও হাঁড়ে আঘাত পেয়ে মারাত্মক আহত হত। পরে তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুঁটে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা নানা রকম হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে কলেজ ছাত্রী নাদিরা আফরোজ তাঁর আহত মা ও বাবাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গুরুতর আহত কলেজ ছাত্রীর মাকে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর বাবাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, এ ঘটনার পর কলেজ ছাত্রীর মা মোছা. রুবি বেগম নিজে বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাতেই সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর পর থেকে বখাটের বাংরুর পক্ষ থেকে কলেজ ছাত্রীর পরিবারকে নানা রকম হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। বর্তমানে ওই পরিবারটি চরম নিরাপত্তায় ভূগছেন।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম,অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে বখাটে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ