• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরের তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার পরিকল্পনাকারী দুই জঙ্গী আটক

Nilphamari-JMB Arrest Pic copyসিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে তাজিয়া মিছিল ও শিয়া মসজিদে বোমা হামলা এবং খাদেম হাসনাইন হত্যা মিশনের সাথে জড়িত এমন দুই জঙ্গি সদস্যকে নীলফামারী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আটক জঙ্গী সদস্যরা হলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছাতিয়াগড় গ্রামের মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে একরামুল হক (৫০) ও পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার খুটামারা গ্রামের মৃত নুর আলম প্রধানের ছেলে নুর মোহাম্মদ আরেফিন (২৭)। শনিবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার হয়। এদের মধ্যে সৈয়দপুরে বিভিন্ন স্থানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী একরামুলকে তার নিজ বাড়ির পাশে নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের কাজীরহাট বাজার হতে এবং তার স্বীকারোক্তিতে নুর মোঃ আরেফিনকে দেবীগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় নীলফামারী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বাবুল আক্তার। সুত্র মতে, এরা জঙ্গি গোষ্ঠির হত্যা ও হামলা মিশনের সক্রিয় সদস্য। রবিবার বিকালে এদের নীলফামারী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দেয় তারা।

সুত্র মতে, ২০১৫ সালে ২৪ অক্টোবর আশুরা উপলক্ষে সৈয়দপুর শহরে প্রতিকী কারবালার তাজিয়া মিছিলে এবং সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কে অবস্থিত শিয়া মসজিদে বোমা হামলার চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকায় তাদের সেই মিশন ব্যর্থ হয়। এরপর একই বছরের ১২ নভেম্বর সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা স্মরণীয় কারবালার খোলা মাঠে মাগরিবের সময় একাই নামাজ আদায় করছিল খাদেম হাসনাইন মাষ্টার (৬০)। তাকে ধারালো  তরবারি দিয়ে নামাজের সেজদার সময় ঘাড়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। আশংকাজনক অবস্থায় এলাকাবাসী ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে প্রথমে সৈয়দপুর হাসপাতালে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ওই খাদেম সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট রেলওয়ে কলোনী এলাকর মৃত গোলাম রসূলের ছেলে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি বেঁচে যান। ওই ঘটনার সাথে গ্রেফতারকৃত এই জঙ্গি সদস্যদের যোগসুত্র রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। ওই সূত্রটি আরো জানায়, ১৪/১৫ জনের একটি সক্রিয় দল এসব হামলার সাথে জড়িত ছিল।

এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় মামলা হয়। মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছিল। তদন্তে ঘটনাটি জঙ্গিদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া সৈয়দপুর থানার এসআই নজরুল ইসলাম গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় সন্ত্রাস দমন ধারায় আরো একটি মামলা দায়ের করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ