• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন |

গুগল কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের চিন্তাচেতনা

কাকন।। খুরশিদ জামান কাকন ।। বর্তমানের প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ প্রতিনিয়ত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক থেকে আরো আধুনিকতর হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির কল্যানে মানুষের জীবনযাপন এখন সহজ ও সাধ্যের মধ্যে হয়ে উঠেছে। বর্তমানের আধুনিক সমাজে সবকিছুতেই প্রযুক্তি নির্ভরতার ব্যবহার ব্যাপক আকার ধারন করেছে। এখন আর আমরা নিজের বুদ্ধিমত্তাকে সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চাই না। আমরা বর্তমানে মেধার প্রয়োগ অথবা নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা যাছাই বাছাইকে শুধুমাত্র নিছক সময় নষ্ট মনে করে থাকি। আমরা সবকিছুই প্রস্তুত পেতে চাই। অথচ নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু উদ্ভব করতে চাই না। আমরা অন্যের অনুকরণ করতে এতোটাই অভ্যস্ত যে নিজের কিছু করার প্রয়াস থাকতে পারে তাও ভুলে যাই। সবখানে এখন প্রয়োজনে পাশে গুগল বাবার ব্যবহার। আমি বলছি না ভার্চুয়াল জগতের অন্যতম আবিষ্কার এই গুগল আমাদের জন্য অমঙ্গলজনক। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এতোটাই বেশি ব্যবহার যে গুগল এখন সর্বসমস্যার ঔষধ স্বরুপ প্রচলিত।
ক’দিন আগে একটি প্রতিযোগিতায় দেয়াল পত্রিকা বানানোর দায়িত্ব দেয়া হলো আমার এক বন্ধুকে। পরক্ষনেই সে আমাদের সবার মতামত ও ধারণাকে অগ্রাহ্য করে গুগলে সার্চ দিয়ে পছন্দের নকশা বাছাই করে। পরব্রতিতে ফলস্বরুপ প্রতিযোগিতার দিন তার মুখের দিকে চেয়ে থাকায় বড় দায় হয়ে উঠেছিলো। সে এতোটাই অপদস্থ ও লজ্জিত হয়েছিলো যে সবার থেকে আরালে থেকেছিলো। কেনোনা প্রতিযোগীতায় বেশিরভাগ “দেয়াল পত্রিকার” ডিজাইন ছিলো একই। এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে সবাই গুগল বাবার সহযোগীতা নিয়েছিলো।
বর্তমানে ইংরেজি লেখতে-পড়তে আর গ্রামার শেখা লাগে না। পকেটে পকেটে জনে জনে গুগল ট্রান্সলেটের ব্যবহার এখন অহরহ। এখন আর কেউ অভিদান খুজে না কোন শব্দার্থের মিনিং জানার জন্য। আছে তো ফোনে ফোনে ডিকশনারির ব্যবহার।
আমরা বর্তমানে আধুনিক সভ্যতায় এসে এমন হয়ে গেছি যে, মশা মেরে আর হাত নোংরা করতে চাই না। আগে পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গল্প-কবিতা-উপন্যাসের বই পড়ে অনেক কিছু জানতে পড়তে ও শিখতে পারতো। আর বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগলের পর সময় সুযোগ পেলে তবেই প্রাতিষ্ঠানিক বই নিয়ে বসে। আগে পরীক্ষার আগে সিলেবাস সম্পূর্ণ করতে বই পড়াতে শিক্ষার্থীর রাত-দিন এক হয়ে যেতো। আর এখন পরীক্ষার আগে অনলাইনে প্রশ্ন/সাজেশন খুজাতেই ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে শিক্ষার্থীর সৃজনশীল মেধার চাষ শুধুমাত্র পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাস্তবে সৃজনশীল চর্চার প্রয়োগ খুব কম দেখা যায়। এভাবে চলতে থাকলে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার অপব্যবহারে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাচেতনা ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ অনেকাংশে কমে যাবে অদূর ভবিষ্যতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ