মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম: ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ফুলকুমারসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে চিলমারী শহর রক্ষা বাঁধ।
ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসি প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। পানির স্রোতে সদরের যাত্রাপুর বাজার রক্ষা বাঁধের ১শ মিটার ধসে যাওয়ায় ১৫টি বাড়ি ও ১০টি দোকান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কুমরপুর এলাকায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে পানি ওঠায় ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে চিলমারী শহর রক্ষা বাঁধ।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, নাগেশ্বরী, রৌমারী, রাজীবপুর, ফুলবাড়ীসহ ৯ উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩ লক্ষাধিক মানুষ। খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে বানভাসি মানুষ। সরকারের বিতরণ করা ত্রাণ অনেকের ভাগ্যে জুটছে না। বন্যা কবলিত এলাকায় কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
কুড়িগ্রামে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন জানান, ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ১৯২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে, যা বিতরণ করা হচ্ছে। নতুন করে ৫শ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা ও দুধকুমারের পানিও।