• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন |

ভুয়া সনদে ২৭ বছর চাকরি !

Rajibpur-picture-28072016রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ১৯৯০ সালে শিক্ষকতা পেশা শুরু করার দীর্ঘ ২৭ বছর পর ত্রক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ ব্যাবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

তার নাম আব্দুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বকবান্দা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি । গত বছর ওই একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের পদটিও দখল করেন অনিয়মের মাধ্যমে। ওই অনিয়ম আর ভুয়া সনদের বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের উপসচিব নুসরাত জাবীন বানুর স্বাক্ষরিত এক আদশে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে রংপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রিয়সিন্দু তালুকদারকে।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই শিক্ষকের এসএসসি ও এইচএসসি’র সনদে পৃথক পিতার নাম, একাধিক স্থায়ী ঠিকানা এবং বিএসসি পাশ করার আগেই সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন। তাঁর সনদে বিএসসি পাশ সন ১৯৯৩ সালে অথচ ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন ১৯৯০ সালের ১ ডিসেম্বর। একই ভাবে লেখাপড়া না করেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৬ সালে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিএড পাশের সনদ ব্যবহার করেছেন । এসএসসির সনদে তার পিতার নাম মোঃ ফছর উদ্দিন সরকার অথচ এইচএসসি পরীক্ষার মূল সনদে তার পিতার নাম মৃত কছুর উদ্দিন দেখা গেছে। অপরদিকে রংপুরের পীরগাছা কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে বিএসসি পাশের সনদ দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওই কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ শাহ্ মো. মাহমিদ হাসান অভিযুক্তের সনদ সুস্পষ্ট নয় বলে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেছেন।

অভিযোগে সূত্রে আরো জানা গেছে, বকবান্দা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ২০ মার্চ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পূর্নরূপে গোপনে নিয়োগ প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারী সহিদুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, শাহজাহান আলী ও গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেছেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি রুহুল আমিন ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে গোপনে তাকে নিয়োগ প্রদান করেছেন। প্রতিষ্ঠানের আজীবন দাতা সদস্য আব্দুল বারী সরকার বলেন, ‘আমাকেও জানানো হয়নি নিয়োগের বিষয়টি। আমি পরে জানতে পেরেছি যে আব্দুর রহমান স্কুলের প্রধান পদে নিয়োগ নিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, যারা নিয়োগ পায়নি তারা আমার রিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন অর্থের বিনিময়ে গোপনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর যদি সনদ ভুয়া হয় সেটা দেখবে মন্ত্রাণালয়। তিনি আরও জানান তার শিক্ষাগত সনদ ভুয়া থাকলে বেতন হবে না।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রিয়সিন্দু তালুকদার মুঠোফোনে জানান, খুব শীঘ্রই অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত করতে রৌমারীতে যাব তখন বলা যাবে তার সনদ ভুয়া না সঠিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ