সিসি নিউজ: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে নবনির্মিত কারাগারে বন্দী স্থানান্তর শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে বন্দী স্থানান্তর শুরু হয়।
কারা সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ছয় সহস্রাধিক বন্দীকে শুক্রবার ও শনিবার একযোগে স্থানান্তর করার কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারটি পরিত্যক্ত হবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর কবির বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানান, কারাগারের দাফতরিক আসবাব আগেই কেরানীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে তিনি ও কারাধ্যক্ষ নতুন কারাগারে দায়িত্ব পালন করবেন।
বন্দী স্থানান্তরের আয়োজন নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দফতরে বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কঠোর নিরাপত্তায় শক্রবার সকাল ছয়টা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে বন্দীদের রাজেন্দ্রপুরের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। ডিএমপির দুই হাজার পুলিশ সদস্যের বাইরে ঢাকা জেলার পুলিশের অন্তত ৬০০ সদস্য এই বহরের নিরাপত্তা দেবেন।
এতে র্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অংশ নেবে। বন্দী স্থানান্তরের সময় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোড থেকে পোস্তগোলা হয়ে রাজেন্দ্রপুরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানান, স্থানান্তর উপলক্ষে ইতিমধ্যে নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কারাগার সূত্র জানায়, নাজিমউদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী বন্দী ও দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের এর আগে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হলে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে।
নাজিমউদ্দিন রোডের ১৭ একর জমিতে ১৭৮৮ সালে গড়ে ওঠা পুরোনো কারাগার ভবনটিতে বন্দী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৮২৬ জন, বর্তমানে আছেন ৬ হাজারের বেশি।
কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগার ভবন দাঁড়িয়ে আছে ১৯৪ একরের বেশি জমির ওপর। ধারণক্ষমতা ৫০০০ হলেও ৮ হাজারের মতো বন্দী থাকতে পারবেন।