মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার রৌমারী উপজেলা সম্পূর্ণরুপে বন্যাকবলিত হওয়ায় একে দুর্যোগপূর্ণ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ মামুন তালুকদার। এদিকে জেলার ৯ উপজেলায় কমেনি ছয় লক্ষাধিক বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ল্যাট্রিনের অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছে উঁচু বাঁধ, পাকা সড়কে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার পরিবার। বন্যাকবলিত এলাকার সবগুলো উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন উঁচু প্রতিষ্ঠানে বানভাসী পরিবারগুলো তাদের গবাদিপশু নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো জরুরি ভিত্তিতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতের মাঝে ৫৭৫ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হলেও তা ছয় লক্ষাধিক বানভাসীর জন্য অপ্রতুল। বেশির ভাগ বানভাসীর ভাগ্যে ত্রাণ সহায়তা না জোটায় একবেলা খেয়ে না-খেয়ে থাকার অভিযোগ তাদের। জেলার ৯ উপজেলভায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক ও ৪০ কিলোমিটার নদ-নদীর তীর রক্ষা বাঁধ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ২ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে তিস্তা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর পানি।অপর দিকে চিলমারীতে বুরুজের পাড় নামক স্থানে শুক্রবার ভোরে কাঁচকোল বাজার সড়ক ভেঙ্গে প্রায় ৪০টি গ্রাম প্লাবিত। পানির তোড়ে ভেঁসে গেছে ৮টি ঘর। এতে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল এবং নতুন করে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে ব্যাপারীর বাজার এলাকার সাথে কাঁচকোল বাজার এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাড়িঘর ভেসে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে উক্ত পরিবার গুলো।