কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে আছে। এতে করে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষি ক্ষেত্র। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ১৬ নদ-নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বাড়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে কুড়িগ্রামে। গত দু’সপ্তাহ ধরে ব্রহ্মপুত্র এবং ধরলা নদীর পানি প্রবাহ বিপদ সীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ৯ উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়নের দ্বীপচর, নদ-নদী তীরবর্তী চরসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ১শ’ ৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার পাট, রোপা আমন, বীজতলা, আউশ এবং পটোল, ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স ও করলাসহ শাকসবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষেতগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে কৃষকেরা। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মকবুল হোসেন বলছেন, এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আসন্ন রবি মৌসুমে আগাম গম, ভুট্টা, চিনাবাদাম, আলু ও সরিষা আবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ৩ হাজার ৩২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৩ হাজার ৬৭২ হেক্টর আমন ক্ষেত, ৯৬৩ হেক্টর আউশ ক্ষেত, ১ হাজার ৩৬৬ হেক্টর শাকসবজি ক্ষেত এবং ১ হাজার ১৬০ হেক্টর পাট ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার কৃষক।