কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারীর আলেয়া বেগম। বাড়ি ঘর বিলীন হয়ে গেছে নদীতে। স্বামী নেই, দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে গলদঘর্ম তিনি। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এই দুর্দশায় থাকা আলেয়া এখন পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ পাননি।আলেয়া বেগমের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন না বলে তাকে সহায়তা করা হচ্ছে না। আলেয়া বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছেন। তারা কেবল সরকার সমর্থকদের নাম তালিকায় তুলছেন। অন্যরা যতই ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ রকম অভিযোগ কেবল একজন আলেয়া নয়। করেছেন ওই এলাকার অনেকেই।
রৌমারীরই বলদা এলাকার বাসিন্দা সোহেল হায়দার। বলেন, ‘হামার ঘরবাড়ি কিছুই নেই। কিন্তু কিছুই পাইনি। আজকেও পাব কি না জানি না। আমাকে সিলিপ (স্লিপ) দেওয়া হয়নি।’
জামাল উদ্দিন নামে ক্ষতিগ্রস্ত আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘কিছুই পাইনি বাহে। কষ্টে আছি।’
ত্রাণ বিতরণে কুড়িগ্রামে থাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছেও এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন দুর্গতরা। জবাবে মন্ত্রী তাদেরকে নিয়েছেন আশ্বাস। ত্রাণ পাবে সবাই। দিয়েছেন হুঁশিয়ারি, বলেছেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোন পক্ষপাতিত্ব করলে ছাড় দেয়া হবে না।
মন্ত্রী বলেন, ‘ত্রাণ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব বা স্বজনপ্রীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের পাশে সমানভাবে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটি মানুষও যেন ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়। কারও জন্য দুর্নাম মেনে নেয়া হবে না।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘সবাই ত্রাণ পাবে না। যারা একেবারেই গরীব ও সহায় সম্বলহীন তাদেরকেই ত্রাণ দেওয়া হয়। অনেক সময় অন্যরাও ত্রাণ নেয়। এটা বন্ধ করতে হবে।’
উৎস: ঢাকাটাইমস