মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নে শোক দিবসে পতাকা অর্ধনমিত করতে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী। আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে বেরইল দারুল হুদা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই অধ্যক্ষের নাম আব্দুল আজিজ।
বেরইল পলিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মহব্বত আলী জানান, আজ ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার কথা। কিন্তু বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বেরইল পলিতা ইউনিয়ন পরিষদের অদূরের ওই মাদ্রাসায় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।
এটি জানতে পেরে ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান পালনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আসা স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার জবেদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই মাদ্রাসায় যান।
তারা অধ্যক্ষকে পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত করার কথা জানান। এ সময় অধ্যক্ষ মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি আসেনি বলে জানিয়ে পতাকা উত্তোলনে অস্বীকৃতি জানান। এলাকাবাসীর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি পতাকা উত্তোলন করতে রাজি হননি।
উপরন্তু তিনি বলেন, আমি প্রয়োজনে আত্মহত্যা করব। তবু পতাকা ছোঁব না। এ অবস্থায় উত্তেজিত জনতা ওই অধ্যক্ষকে ধরে গণধোলাই দেয়। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে এলাকাবাসী নিজেরা মাদ্রাসায় পতাকা উত্তোলন করেন।
এ ব্যাপারে জানার জন্য ওই অধ্যক্ষের মোবাইলে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনার পর এলাকাবাসী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা প্রচার ও উগ্রবাদের প্রসারে কাজ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।