• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুর পৌর পরিষদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ২নং ওয়ার্ডবাসী

SAM_8448এন. এ. আনসারী: সৈয়দপুর পৌরসভা ২টি হাইড্রলিক ট্রাক নামিয়ে ঢাক ঢোল পিটিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছিন্নতার অভিযানে প্রচারে নামলেও বিন্দুমাত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ২নং ওয়ার্ডে। অত্র ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায় পাড়ায় পাড়ায় আবর্জনার স্তুপ পড়ে আছে, ডাস্টাবিনের ময়লা রাস্তা দখল করে আছে, মহল্লার প্রত্যেক নালা নর্দমা ভরাট হয়ে ময়লা পানি রাস্তায় চলে আসে কিন্তু দেখার কেউ নেই, এই এলাকার জন্য যেন নিষিদ্ধ পৌর পরিষদের হাইড্রলিক ট্রাক। সকল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা যেন ৮,৯,১০,১১ সহ অন্যান্য ওয়ার্ডের জন্য ২নং ওয়ার্ডের জন্য নই। এজন্য এখন অবহেলিত ওয়ার্ডের তকমা নিয়ে জিয়ে আছে অত্র ২নং ওয়ার্ড এলাকাবাসী। এ নিয়ে ওই এলাকার লোকজন নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সৈয়দপুর শহরের চিনি মসজিদ থেকে কয়া গোলাহাট স্কুল এন্ড কলেজ পর্যন্ত এবং সেখান থেকে হাইওয়ে রোড কিসামত পাড়া পর্যন্ত সৈয়দপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সীমানা। ২নং ওয়ার্ডের টেঙ্কি মাঠ সংলগ্ন ডাস্টাবিন দেখিয়ে আক্ষেপের সাথে কথা বলছিলেন রহমত চাচা। ডাস্টাবিনটি পুরো ভরাট হয়ে চতুর্দিকে তার কয়েকগুন চলাচলের রাস্তা দখল করে রেখেছে এই আবর্জনার স্তুপ। মহল্লার কাউন্সিলারকে অভিযোগ দিলেও তেমন কর্ণপাত করা হয় না, এমনকি তিনি আর তেমন খোজ খবরও রাখেন না এলাকাবাসীর বলে উপস্থিত অনেকে অভিযোগ করেন। মাসের পর কোন একদিনে আবর্জনা নেওয়ার জন্য পৌরসভার গাড়ী আসলেও সম্পুর্ন ময়লা নিয়ে যায় না।
তেমনি ময়লার বিশাল স্তুপ দেখা গেলো গোলাহাট কবরস্থান গেটের সামনে রমজানী পান দোকানে পিছনের ডাস্টাবিনটিতে। ডাস্টাবিনটি যেন রাস্তার উপরেই তৈরি বলে সেখানে আবর্জনার স্তুপ মানুষ চলাচলের বিন্দুমাত্র রাস্তা ছাড়েনি। মরা মুরগী, কুকুর, সহ ময়ালা আবর্জনায় ভরে একাকার এই মহল্লা। ডাস্টাবিন পুর্ণ হয়ে তার কয়েকগুন আবর্জনা পুরো রাস্তায় এসে পড়েছে। পাশ্ববর্তী নর্দমায় ময়লা জমাট হয়ে নর্দমার পানি এখন মানুষের ঘরে ঢোকে প্রতিদিন। নামাজে আসা-যাওয়া করা মুসল্লিদের পোহাতে হয় সীমাহিন কষ্ট। অথচ অত্র এলাকাবাসী সই স্বাক্ষর করে রাস্তার উপর থাকা এই ডাস্টাবিনকে অনত্রে সরানোর জন্য অনেক আগেই পৌরসভায় লিখিত আবেদন করেছিলো কিন্তু কোন ফলাফল বয়ে আনেনি। সই স্বাক্ষর করা সেই লিখিত আবেদনপত্রটির রিসিভ কপি দেখিয়ে আক্ষেপের সাথে কথা বলছিলেন এলাকার নেসার আহমেদ।
ভুক্তভোগী রুবেল জানান, এ নিয়ে কয়েকবার পৌরসভায় এই ডাস্টাবিনের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এখান থেকে সরানোর জন্য কারন ডাস্টাবিনটি সম্পুর্নরুপে রাস্তার উপর। তাই ভরাট হয়ে সব ময়লা রাস্তা দখল করে ফলে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু পৌর মেয়র সাহেব এই ডাস্টাবিনকে প্রতিদিন পরিস্কার করার আশ্বাস দিলেও পৌরসভার গাড়ী আসে মাসে একবার। তাও জানানো পর। অথচ এলাকাবাসীর দাবী ডাস্টাবিনটি এখান থেকে সরিয়ে ফাকা যায়গা স্থাপন করার। কিন্তু পরিতাপের বিষয় পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডে উন্নয়ন হলেও এই ওয়ার্ডে তেমন কর্ণপাত করা হচ্ছে না।
রনি নামে আরেকজন জানান ভোটের পর পরিস্থিতি দেখার জন্য কাউন্সিলার সাহেব একবারও এসেছেন কি না তা মহল্লাবাসী বলতে পারবে না। ফলে সৈয়দপুর শহরের উন্নয়নের মূল শ্রোতধারার সাথে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা এই এলাকার বাসিন্দারা।
গৃহিনী রুবি খাতুন জানান আবর্জনার বিশ্রি গন্ধে একদম থাকা যায় না। রাস্তার মধ্যে মরা মুরগি,কুকুর থাকলে থাকা কিভাবে সম্ভব। অচিরেই এই ডাস্টাবিন অনত্রে সরানোর দাবী জানান তিনি।
অবহেলিত এলাকাবাসীর র্দীর্ঘ অভিযোগ সম্পর্কে ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার জনাব গোলাম মোস্তাফার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আস্তে আস্তে সব হবে। এটা ঠিক পৌর এলাকার মধ্যে ২নং ওয়ার্ডে তেমন কোন উন্নয়ন ঘটৈনি। আমি এ ব্যাপারে পৌর মেয়রকে অবহিত করবো বলে তিনি জানান।
এদিকে অনুরুপ অবস্থা দেখা গেল ১নং ক্যাম্পের, কবরস্থান গেটে, ইমলি মহল্লায়। সব ডাস্টাবিন ভরে ময়লা বাইরে পড়ছে। নালি নর্দমা ভরে ময়লা পানি রাস্তায় উঠছে কিন্তু দেখার কেউ নেই। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়নের দৃঢ় প্রতিশ্র“তির একটুও বাস্তবায়ন হয়নি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখি হলেও আজও পর্যন্ত তার কোন ফল আসেনি।
একই ভাবে এলাকাবাসী আলাউদ্দীন সরদার, রাজু আহমেদ, রমজান আলি, নজরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, আনছার আলী, আব্দুর রহিমসহ অনেকে জানান, প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা আমাদের অন্যান্য ওয়ার্ডে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান হলে আমাদের ওয়ার্ডে হচ্ছে না কেন? কেন আমাদের লিখিত অভিযোগ অগ্রাহ্য করা হচ্ছে?। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নার্দমা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা চললেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। পৌর মেয়রের কাছে অচিরেই ভুক্তভোগিদের অভিযোগ আমলে নেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ