চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সংঘর্ষে শ্রী টুলু দাস হত্যাকান্ডে হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজন হত্যাকারীর ফাঁসি চেয়ে নেমে এসেছে রাজপথে। চলছে দফায় দফায় বিক্ষোভ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সরদারপাড়া (মাঝিপাড়া) এলাকার বক্তার আলী, কাছুয়া, নুর আলম গং এর সহিত একই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় শ্রী বিপুল, পবিত্র দাস গং এর সাথে দৃর্ঘদীন থেকে নদীতে মাছধরাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনারদিন শুক্রবার খেরু চন্দ্র দাসের স্কুল পড়–য়া ছেলের সঙ্গে অপর পক্ষের আঃ খালেকের স্কুল পড়–য়া ছেলের জগড়া হয় এরই জের ধরে বিকালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় শ্রী টুলু দাস, বিপুল, পবিত্রসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় টুলু দাস, শ্রী বিপুল ও পবিত্রকে চিলমারী হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত শষি দাসের পুত্র শ্রী টুলু দাসকে মৃত ঘোশনা করেন। খবরটি এলাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথে ক্ষোভে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মানুষজন। পরে নিহতের স্ত্রী শ্রী তিরপতি রানী বাদী হয়ে ১৫জনকে আসামী করে চিলমারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭ তাং ২৬-০৮-২০১৬। পুলিশ অভিযান চালিয়ে নুর আলম, বক্তার আলীসহ ৩জনকে গ্রেফতার করে। অপর দিকে টুলু দাসের হত্যাকারীদের ফাঁসিসহ বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। উপজেলা শহর পরিনত হয় টপ অব দা টাউনে। এসময় তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে হত্যাকারীদের ফাঁসি ও জরিতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চিলমারী মডেল থানার এস আই মশিউর রহমান বলেন এব্যাপারে একটি হত্যা মামলা হয়েছে ইতি মধ্যে ৩জনকে গ্রেফতার করে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সাথে জরিতদের গ্রেফতারসহ বিচারের দাবি করে রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মনজুরুল ইসলাম বলেন গ্রেফতারের নামে যেন সাধারন মানুষকে হয়রানী করা না হয় আর সেই দিকে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন। তবে উক্ত এলাকার হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজন অভিযোগ করে বলেন নুর আলম, মাছুমসহ কয়েকজন প্রায় সময় আমাদের (হিন্দুদের) বিভিন্ন ভাবে হয়রানীসহ ভয়ভিতি দেখিয়ে আসছিল। গ্রেফতার হওয়া আসামী নুর আলম সংঘর্ষের কথা শিকার করলেও হত্যার কথা অশিকার করেন।