সিসি নিউজ: দিনাজপুরে ইয়াসমিন ট্রাজেডির ২০ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে ইয়াসমিন আন্দোলনের ২ নেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের দশ মাইল পুর্ব সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ইয়াসমিন ট্রাজেডির স্মরন পরিষদের উদ্যোগে তৎকালীন ইয়াসমিন ধর্ষন ও হত্যা ঘটনায় দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দসহ সব্বোর্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সাহসী ভুমিকা পালনকারী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্টসহচর সাবেক সাংসদ এম আব্দুর রহিম এবং অপর নেতা মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপিকে ক্রেষ্ট দিয়ে সম্মাননা দেয়া হয়্ ।
ইয়াসমিন ট্রাজেডি স্মরন পরিষদের আহবায়ক মোঃ মজিদুল ইসলাম মাষ্টারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি চিত্ত ঘোষ, জেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক সাখোয়াত হোসেন সরকার, মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আজাদী হাই, কাহারোল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ কেএম ফারুক,জেলা জাতিয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শফি রুবেল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের সভাপতি মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম তানু,সদর উপজেলা আওয়ামেলীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, শহর আওয়ামেলীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সুন্দরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শরিফ উদ্দীন আহমেদ,আওয়ামীলীগ নেতা হামিদুল ইসলাম.বজলুল করিম বাবলু,দুলাল হোসেন,বাবু মাষ্টার,জাকির হোসেন প্রমুখ এবং ইয়াসমিন হত্যাকান্ডের উপর স্মৃতিচারণ বক্তব্য রাখেন পুর্বসাদিপুর স্কুলের ছাত্রী রুনি কিসকু ও সুরাবান তহুরা। জননেতা এম আব্দুর রহিম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহন করেন শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম। সম্মাননা প্রাপ্ত মনোরঞ্জনশীল গোপাল ক্রেস্ট হাতে নিয়েই কেঁদে ফেলেন। ক্রদনরত কণ্ঠে তিনি বলেন, পৃথিবীর আলোয় আছি, বেছে আছি। এই বীর জনতার জন্যই। সে দিন একটি অসহায় নির্যাতিত, নিপীরিত কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষন ও হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বলা হয়েছিল গোপালকে আর আলোর জগতে রাখা হবে না। অন্ধকারেই তার জীবন কাটবে। কিন্তু অন্যায় অত্যাচার ও নির্যাতন বিধাতা সহ্য করে না। দিনাজপুরের বীর জনতা অকুন্ঠ ভালোবাসা ও আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রমান করেছে। লাখো মানুষের ভালবাসা ও দোয়া আজ আমাকে বেচে রেখেছে। এই সম্মাননা আমার জন্য নয় দিনাজপুরের বীর জনতার। ইয়াসমিন ও সামু, সিরাজ, কাদের এর শোক কে শক্তিকে পরিনত করে যারা ধর্মযাজক, হিন্দু, পুরোহীত, ইমাম ও বিদেশীদের হত্যা করছে তাদেরকে বীর জনতাই প্রতিহত করবে।
প্রধান অতিথি আজিজুল ইমাম চৌধুরী বলেন, ইয়াসমিন ট্রাজেডি কে স্মরন রেখেই পরাজিত শক্তিদের বিরুদ্ধে আমাদের আবার লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। পরাজিত শক্তিরা সারাদেশকে অস্থিতিশীল করতে মানুষ হত্যা শুরু করেছে। ওই পরাজিত শক্তিকে বুঝিয়ে দিতে হবে ইয়াসমিন আন্দোলনের বীর সৈনিকরা এখনো বাংলার মাটিতে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অসুস্থ্য এম আব্দুর রহিম এর সুস্থ্যতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সম্মাননা অনুষ্ঠানটি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম।