• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন |

কুড়িগ্রামে রোগীর খাবার ডাষ্টবিনে

Picture 29.08মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীর খাবার পরিবেশনে ক্ষমতাশীন দলের ঠিকাদার থাকায় পথ্য তালিকা না মেনে রোগীদের দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার।প্রদত্ত খাবার গুলো না খেয়ে ডাষ্টবিনে ফেলার কথা জানালেন রোগীরা। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেখেও না দেখার ভান করে সায় দিয়ে চলছে।
সরেজমিনে কয়েক দিন হাসপাতালটিয়ে গেয়ে দেখা যায়,রোগীদের খাবার হিসেবে নিয়মিতভাবে পচাঁ গন্ধযুক্ত ভাত ও ছোট সিলভার কার্প মাছের সাথে আলু ও পেপের সামান্য তরকারী পরিবেশন করা হচ্ছে। হাসপাতালটির পথ্য তালিকা অনুযায়ী পথ্য নং ১ এ সকালে ১৭৫গ্রাম পাউরুটি যার মূল্য সাড়ে ১৭টাকা,৮টাকা দামের ১টি ডিম,৮টাকা দামের ২টি কলাসহ দুপুরে ও রাতে ৫০০ গ্রাম চালের ভাত যার মূল্য ১৭টাকা, মাছ অথবা মাংস ৪৫.৮৩টাকারসহ নির্দিষ্ট তালিকানুযায়ী প্রতি দিন প্রতি রোগীর জন্য ১২৫টাকার খাবার দেয়ার কথা থাকলেও অনেকের ধারনায় প্রতিদিন গড়ে তাদের খাবার দেয়া হয় ৫০থেকে ৬০টাকার। এছাড়াও পথ্য তালিকায় রোগী ভেদে আধা তরল এবং তরল খাবারের কথা উল্লেখ থাকলেও ঠিকাদার নিয়ম বর্জিতভাবে সকলকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন নিজ ইচ্ছামত নিম্নমানে খাবার পরিবেশন করে আসছেন। প্রতি সপ্তাহে ৪দিন নির্দিষ্ট করে দেয়া মাছ ও ৩দিন মাংস দেয়ার চুক্তি থাকা সত্বেও তা মানা হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী মোছাঃ সাবানা(৩৮),হাজেরা(৪০),রাশেদা(৫০) ও রহিমা(২৮)সহ অনেকে জানায়, তারা হাসপাতাল থেকে দেয়া সকালে পোকা যুক্ত চিড়া এবং দুপুরে ও রাতে পচাঁ গন্ধযুক্ত চালের ভাত সাথে ছোট সিলভার কার্প মাছের সামান্য তরকারী পায়। যা তারা ডাষ্টবিনে ফেলে বাড়ী থেকে খাবার এনে খায়, দুঃস্থ রোগী না খেয়েই দিন কাটাচ্ছে। মান সম্মত খাবার পরিবেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোড় দাবী জানিয়েছেন রোগীরা।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স জানায়, খাবারের মান ভাল করার জন্য অনেক জায়গায় জানিয়েও কোন লাভ হয়নি, ক্ষমতাশীন দলের ঠিকাদার হওয়ায় সবাই ভয় পায়। অভিযোগ রয়েছে,স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গোছরে প্রতিদিন রোগীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে ৫৭১/১ রেজিঃ ভূক্ত ছক্কু,৫৭২/২অবিনাস ও ৭০৮/৪ আবেদা নামের তিনজনের খাবার বিতরণ দেখিয়ে তার পরিবর্তে তাদের জনপ্রতি মাসিক ৩হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও পথ্য রেজিষ্টারে রোগী সংখ্যা বেশী দেখিয়ে খাবার বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা দায়িত্বেরতদের পকেটস্থ করার অভিযোগ রয়েছে। নার্সিং সুপার ভাইজার মোঃ মজিবর রহমান বলেন, রোগীর তালিকায় রেজিষ্টার ভূক্ত ওই তিনকে কাজের বিনিময়ে খাবারের বরাদ্দ থেকে মাসিক এ অর্থ প্রদান করা হয়। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোছাঃ রেজিনা বেগমকে অফিসে না পেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাগোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ