• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন |

সীমান্ত অতিক্রম করে বিরামপুরে ভারতীয় বীর হনুমান

Dinajpur-Pic-02সিসি নিউজ:  বীর বাহাদুর নয়, ভারতীয় বীর হনুমান এবার দিনাজপুরে।বিরামপুর উপজেলার কাটলা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভারতীয় এই হনুমান। হনুমান দেখতে দূরদুরান্ত থেকে ভীড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। তবে হনুমানটি কোনও ক্ষতি করতে পারে এমন আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর দাবি হনুমানটি উদ্ধার করে যেন কোনও বিনোদন কেন্দ্রে নেয়া হয়।
গত বুধবার সকালে বাংলাদেশে প্রবশ করে ভারতীয় এ হনুমান। এ সময় সে স্থানীয় একটি জঙ্গলের গাছে অবস্থান নেয় । বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী ভীড় জমায় ওই এলাকায়। লোকজনের উপস্থিতিতে সে ওই স্থান ত্যাগ করে বৃহস্পতিবার অবস্থান নেয় কাটলা বাজারের পার্শ্ববর্তী একটি মোবাইল টাওয়ারে। পরে দিনভর সে অবস্থান নেয় বাজারের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গাছ ও ভবনের ছাদে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানাধীন জামালপুর গ্রামের নরেশ তার বাড়িতে তিনটি হনুমান প্রতিপালন করতেন । হঠাৎ তিনি হনুমান তিনটিকে মারপিট করেন। এতে হনুমানরা খাঁচা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। মনিব নরেশ দু’টি বাচ্চা হনুমানকে সীমান্তের ওপার থেকে ধরে নিয়ে গেলেও মা হনুমানটি সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশে।
কাটলা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমজাদ ও রোমা জানান, ‘হনুমানটি স্কুলের ছাদে অবস্থান করছিল। ওই সময় প্রথম তাদের জীবনে হনুমান দেখা। এর আগে কখনও তারা হনুমান দেখেনি।’
সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ভারতীয় হনুমান দেখতে আসা বিরামপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তাবাসসুম জানায়, ‘এর আগে বাংলাদেশে একটি হাতি এসেছিল। কিন্তু খামখেয়ালীর কারণে হাতিটি মারা যায়। অন্তত এই হনুমানটির পরিণতি যাতে তেমনটি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সাবধাণতা অবলম্বন করতে হবে।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজির হোসেন জানিয়েছেন, ‘সীমান্ত অতিক্রম করার সময় বিএসএফ সদস্যরা চেষ্টা করেও তার গতিপথ পাল্টাতে পারেনি। হনুমানটিকে উদ্ধারের জন্য ইউএনও, পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হনুমানটির যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার (পুলিশ) দিয়ে পাহারা রাখা হয়েছে। হনুমানটির খোঁজ নিতে বন বিভাগের কর্মকর্তা আসলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধারের কোনও তৎপরতা গ্রহণ করেনি।’
বন বিভাগের বিরামপুর (চরকাই) রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তিনি কয়েকজন বন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নিয়ে চেষ্টা করেও হনুমানটিকে নিচে নামাতে পারেননি।’ দিনাজপুর সামাজিক বন কর্মকর্তা আওয়াল জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। ব্যবস্থা নিতে বলেছি স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ