দুরুদ আহমেদ, মৌলভীবাজার : “তব বিদায়ের প্রান্তরে এসে দাঁড়াতে হয় মোরে বারে বারে”। সত্যিই বিদায় শব্দটা বড়ই হৃদয় বিদারক, কেউ বিদায় নেয় আবার কাউকে বিদায় দিতে হয়। তবে এ বিদায় শেষ বিদায় নয়, সময়ের বিবর্তনে অনেক বারই বিদায়ের সারিতে দাঁড়াতে হয়। সময়ের ব্যবধানে সবাইকে এই সারিতে দাঁড়িয়ে বিদায়ের স্বাদ নিতে হয়। এ যেন চিরাচরিত এক নিয়ম। হ্যাঁ সত্যিই বিদায় শব্দটি বিশাল পাহাড়সম ওজন অনুভবের। বিদায় তিন অক্ষরের সাধারণ শব্দ নয়, যেন বুকের উপর একটা পাহাড় চেপে পড়া। বিদায়বেলা সত্যিকারে অনুভব করা যায় বিদায় কি, আর অনুভব করা যায় এর গভীরতা। তাদের যাত্রাটা শুরু ২০১২ সালের গ্রীষ্মের খর দুপুরের এক সকালে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২০১২-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হয়ে। একজোট কিশোর-কিশোরী অদম্য আশা আর রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বিচরণ করেছিল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে। তারপর যাত্রা শুরু হয় তাদের….একেকটি দিন করে শেষ করেছে স্মাতক চারটি বছর। অবশেষে আজ তাদের সমাপ্তি হলো স্নাতকোত্তর। সময়ের আবর্তনে আজকে এসে বিদায় জানাতে হচ্ছে চিরচেনা ভালো লাগার, ভালোবাসার, স্বপ্নে প্রিয় ক্যাম্পাসকে। জীবনের এরকম প্রতিটা বিদায়ই যেন নতুন কিছুর শুরু। তবু বিদায়টা সবসময়ই হয়ে ওঠে বেদনাদায়ক। কারণ নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার পথে বারবার স্মৃতির ক্যানভাসে ভেসে ওঠে ফেলে আসা অধ্যায়ের সোনালি দিনগুলো। পরিবর্তনের ধারায় যে যাত্রাটি শুরু করেছিল ২০১২ সালে, তা ২০১৬ সালের স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সমাপ্তির মাধ্যমে ইতি ঘটল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তিটা যেন একটু বেশিই মন খারাপের। সবার হৃদয়ে বিষণ্নতা বয়ে দিয়ে শরতের আকাশের মতো মনটাকে উদাস করে সমাপ্তি ঘটল জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চিত মুহূর্তগুলো। তাদের স্বপ্নের সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আঙ্গিনা, ক্লাসে শিক্ষকদের ভালোবাসা-শাসন, আড্ডায় মুখরিত দিনগুলো এখন শুধু স্মৃতি হয়ে রইবে। তাই এতদিনের কাটানো দিনগুলোকে স্মৃতিতে আরও বেশি অম্লান করে রাখতে গত ২৩ তারিখ আয়োজন করা হয়েছিল ‘এক অভিনব অনুষ্টান’ মাথা নেড়া ‘ করা, যার মাধ্যমে ছিল বিদায়ের দিনকে মনে রাখার প্রয়াস ।যদিও মাথা নেড়া করা অভিনব কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ছিল বন্ধুত্বের নিদর্শন। বিশ্ববিদ্যালিয়ের ক্যাম্পাস, বন্ধু, শিক্ষকদের মনে রাখার প্রচেষ্টা লুকিয়ে ছিল মাথা নেড়া করার আয়োজনে। তাছাড়া বন্ধুত্বের প্রথম দাবি ঐক্য এবং ত্যাগ ফুটে উঠেছে মাথা নেড়া করার মাধ্যমে। বন্ধুত্বের পরিপূর্ণতা ত্যাগ এবং ঐক্যের প্রতিক হিসেবে মাথা নেড়া কর্মসূচিকে স্বাগত জানাই। তাদের বন্ধুত্ব আজীবন অটুট থাকুক এবং আগামীর সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করছি। ফল ২০১২ তম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিচালক প্রশাসন (মিডিয়া ও জনসংযোগ) তারেক উদ্দিন তাজ বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি বা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের এই বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিতে হলেও আপনাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এবং আপনাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। শিক্ষা জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনারা আপনারা যে চার বছর পার করেছেন তার মধ্যে আমার দেখার সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে, আপনাদেরপ পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়েছে তার প্রমান রাখলেন সবার বেলায়, সবাই একত্রে মাথা ন্যাড়া করার মাধ্যমে। এ সম্পর্ক যাতে চির অটুট থাকে। সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।” এল এল, বি ৪র্থ বর্ষের ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সুজাত মিয়া বলেন, “আমরা চারটি বছর এক সাথে কাটিয়েছি। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক খুবই মধুর হয়েছে। আমাদের আপন ভাইদের সম্পর্কের চেয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা এতই ঘনিষ্ঠ হয়েছে যে, বন্ধুত্বের সম্পর্কটা স্মরণীয় করে রাখতে আমরা সবাই মিলে এক সাথে সবার মাথার চুল বিসর্জন দিলাম। এটাই আমাদের বন্ধুত্বের প্রমান।”এল এল, বি ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুজিবুল হক রায়হান বলেন, “আমাদের শিক্ষাজীবনে ছোটবড় নানান স্মৃতি থাকে বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসে বা ক্লাসে। (প্রথমে আমাদের দুই বন্ধু অসুস্থতার জন্য মাথা নেড়া করে পরে আমরা সবাই)। অনেকে হয়তো এটাকে নেহাথ পাগলামী ছাড়া কিছুই নয় বলবেন। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের গভীরত্ব বুঝাতে এটা একটা কার্যকারী পদক্ষেপ। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হল সবাই মিলে রক্তদান করা।” বিবিএ ৪র্থ বর্ষের ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী কাওছার আহমদ বলেন,”আমরা দীর্ঘ ৪টি বছর একসাথে ছিলাম,এই ৪ বছরের সৃত্বিকে স্বরণীয় করে রাখতে এবং আমাদের বন্ধুরা আমরা যে একজন আরেক জনকে কতটুকু ভালবাসি তার নিদর্শন স্বরুপ সবার চুল নেড়া করা।’এল,এল,বি এর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, “দেখতে দেখতে ৪ টি বছর পার করে দিলাম,সবাই আমরা সবসময় একে অন্যের পাশে ছিলাম,কে বি,বি,এ তে পড়ে, কে পড়ে এল,এল,বি, তে তার কোন ভেদাভেদ ছিলনা। শুধু মাএ নিদিষ্ট ক্লাস ছাড়া।