• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন |

পেনশন প্রসঙ্গে দু’টি কথা

%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%9f।। মাসুদ আহম্মেদ ।। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘অনেক চাকরিজীবী অবসর নেয়ার পর এক সাথে সব টাকা তুলে ফেলেন। ফলে অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী আর্থিক সমস্যায় পড়েন। অনেকে ভিক্ষে করেন।’ সচিবালয়ে পেনশন বিষয়ে একটি সভায় সভাপতিত্বে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। বিদ্যমান পেনশন-ব্যবস্থার সংস্কার হিসেবে মহানিয়ন্ত্রকের অধীনে একটি পৃথক পেনশন অ্যাকাউন্টিং অফিস (পিএও) স্থাপন করা ও আগামীতে পেনশন-সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি পৃথক সেল গঠন করার কথা সভায় বলা হয়। (নয়া দিগন্ত ১৯/৮/২০১৬)

যারা দীর্ঘ দিন দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থেকে দেশের সেবা করেছিলেন, তারা আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারণ, তারা অবসর গ্রহণের সময় চিকিৎসা, ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, মেয়ের বিয়ে, ছেলের চাকরি ইত্যাদি কারণে শতভাগ পেনশন সমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো ‘বৈশাখী উৎসবভাতা’ চালু করেছে। এই যুগোপযোগী পদক্ষেপ সবাইকে আনন্দিত করেছে। দুঃখের বিষয়, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীরা এ ভাতা থেকে বঞ্চিত। অথচ চাকরি থেকে অবসর নেয়ার সময় এরা শুধু ‘পেনশন’ই সমর্পণ করেছেন, কোনো ভাতা নয়। যার ফলে মাসিক চিকিৎসা ভাতা ও বার্ষিক ঈদ বা পূজাভাতা তারা নিয়মিত পেয়ে যাচ্ছেন। সে হিসেবে ‘বৈশাখী উৎসবভাতা’ও একটি ভাতা। অন্য সব রকম ভাতা যদি তারা পেতে পারেন তাহলে ‘বৈশাখী উৎসব ভাতা’ না পাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের নামমাত্র মূল্যে অর্থাৎ ১০০ মাসের (আট বছর চার মাস) প্রাপ্য পেনশনের সমপরিমাণ টাকা পান। অনেকের আট বছর পেরিয়ে গেছে। যদি তারা পুরো পেনশন সমর্পণ না করতেন তাহলে এখন নিয়মিত মাসিক পেনশন পেতেন। তাই আট বছরকে একটি যৌক্তিক সময় হিসেবে গণ্য করে তাদের অথবা ৬৫ ঊর্ধ্ব বয়সীদের পুরো পেনশন চালু করার আবেদন জানাচ্ছি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদে জানান, ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সরকারি দফতরগুলোয় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৩ জন। (নয়া দিগন্ত ১৭/৬/২০১৬) এই সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে যদি পেনশনারদের সংখ্যা অর্ধেক ধরে নিরূপণ করা হয় তাহলে হয়তো সাত লাখের মতো পেনশনার হবেন। কেননা সবাই একসাথে অবসরে যান না। তন্মধ্যে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীর সংখ্যা বড়জোর তিন লাখের মতো হতে পারে। এই তিন লাখের মধ্যে হয়তো এখন এক লাখের আট বছর পেরিয়ে গেছে বা তারা ৬৫ ঊর্ধ্ব বয়সী।

এবারের বাজেটে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, দুস্থ মহিলাদের ভাতা, প্রতিবন্ধভাতা, মাতৃত্বকালীন-ভাতা বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নভাতা ইত্যাদি বাড়ানো হয়েছে। বৈশাখী উৎসব ভাতা চালু হয়েছে। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতনভাতা বাড়ানো হয়েছে; কিন্তু পেনশন সমর্পণকারীদের এতে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের জীবন সায়াহ্নের ক্রান্তিকালে এসে দুই বেলা দ্ইু মুঠো ভাতের জন্য অনেক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইতে হচ্ছে। এ বয়সে তারা না পারছেন কিছু করতে, আর না পারছেন বার্ধক্যজনিত চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে।

এক লাখ শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের বৈশাখী উৎসবভাতাসহ পুরো পেনশন চালু করার জন্য অর্থমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। সেই সাথে পুরো পেনশন চালুর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিবেচনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ