ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাদক বিক্রির অভিযোগে খড়ির দোকানে হামলা ও ভাংচুর করেছে মহিলা কাউন্সিলরসহ তার সহযোগীরা।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় ফুলবাড়ী পৌর শহরের বটতলী মোড় নামক স্থানে মাদক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম গামার খড়ির দোকানে এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ফুলবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন।
সিরাজুল ইসলাম গামার স্ত্রী মোছাঃ মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, বেলা ১১টায় ১নং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রোকেয়া বেগমের নেতৃত্বে দলিল লেখক মামুনুর রশিদ সহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাদের খড়ির দোকানে হামলা চালায় এবং দোকান ঘর গুলো ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেয়। এ সময় তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে। মঞ্জুয়ারা বেগম আরও বলেন, ভাংচুর করার সময় খড়ির দোকানে থাকা খড়ি বিক্রির ২৫ হাজার টাকা সহ ২টি সাইকেল নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
১নং সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর সাংবাদিকদের বলেন, সিরাজুল ইসলাম গামা একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন থেকে খড়ির ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তার মাদক ব্যবসার কারণে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে তিনি তার মাদক ব্যবসার আস্তানা ভেঙ্গে দিয়েছেন।
অপরদিকে সিরাজুল ইসলাম গামার ভাতিজা সোহেল অভিযোগ করে বলেন, তার চাচা সিরাজুল ইসলাম গামা জেলে থাকার সুযোগে তার জায়গাটি জবর দখল করার উদ্দেশ্যে মহিলা কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি তদন্ত আব্দুর রহমান বলেন হামলা ভাংচুরের ঘটনার কথা শুনে তৎক্ষনাত পুলিশ দিয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা দায়ের করেন নাই। মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম গামা দীর্ঘদিন থেকেই তার খড়ির দোকানের আড়ালে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে এবং গত ৭ই আগস্ট গামার খড়ির দোকানে র্যাব-১৩ দিনাজপুর অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক বিক্রির প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা সহ গামাকে আটক করে। সে সময় থেকে গামা জেল হাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, পৌর শহরের বটতলী নামক স্থানে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের জায়গা দখল করে একাধিক দোকান পাট হোটেল রেস্তোরা গড়ে উঠেছে। সেই জায়গায় মহিলা কাউন্সিলরের রোকেয়া বেগমের বাড়ি ও সিরাজুল ইসলাম গামার খড়ির দোকান রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি বটের তল থেকে ব্রিজের মুখ পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে অবিলম্বে উচ্ছেদ করে সরকারি কলেজের জায়গা উদ্ধার করা হোক। এ দাবি ফুলবাড়ীবাসীর।