নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে যৌতুকের বলি হয়েছে এক গৃহবধূ। যৌতুকের কারনে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই গৃহবধূ। নিহত গৃহবধূ হলেন, জয়নাব বানু (২৭)। তিনি জেলার ডিমলা উপজেলা সদরের বাবুরহাট গ্রামের জামিয়ার রহমানের মেয়ে ও একই উপজেলার চাপানী গ্রামের সাদেক হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের স্ত্রী।
অভিযোগ উঠেছে, যৌতুকলোভী শ্বশুড়বাড়ীর লোকজনের কারনে বিয়ের প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হলেও স্বামীর বাড়ীতে না নেয়ায় হতাশায় আত্বহত্যা করেছে ওই গৃহবধূ। সে পেশায় ডিমলা উপজেলা পরিষদের ই-সেন্টারের প্রশিক্ষক। তিনি ২০১০ সাল থেকে ডিমলা উপজেলা ই-সেন্টারের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। আজ শনিবার দুপুরের দিকে নিহতের বাবার বাড়ী হতে গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, ২০১৪ সালে নভেম্বর মাসে জয়নাব বানু’র বিয়ে হয় একই উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী গ্রামের সাদেক হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের সঙ্গে। নিহতের স্বামী একটি বেসরকারী সংস্থার লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ব্যবস্থাপক। বিয়ের সময় দশ লাখ টাকা যৌতুকের মধ্যে ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করে নিহতের পরিবার। বাকী চার লাখ টাকা না পেয়ে স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন জয়নাবের খোঁজখবর নেয়া এক প্রকার বন্ধ করে দেয়। এমনকি সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া ঈদুল আযহার সময়েও জয়নাবের শশুরবাড়ীর লোকজন এমনকি তার স্বামী তার খোজ খবর নেয় নি। এ নিয়ে ঈদের পর থেকে স্বামীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে আসছিলো জয়নাব। এক পর্যায়ে গতকাল শুক্রবার রাতে স্বামীর সাথে মোবাইলে বাক বিতন্ডা হয় জয়নাবের। এ অবস্থায় আজ শনিবার সকালে বাবার বাড়ীতে নিজ শোয়র ঘরে ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে জয়নাব।
এ ব্যাপারে নিহত জয়নাবের স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম তার উপজেলার ই-সেন্টারের প্রশিক্ষক জয়নাব পারিবারিক সমস্যার কারনে আত্মহত্যা করছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।