সিসি নিউজ: এখন থেকে উপজেলায় বসে ট্র্যাকিং করে জানা যাবে স্কুলের কোন শিক্ষক উপস্থিত-অনুপস্থিত, কোন শিক্ষক ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিতি মনিটরিং করতে দেশে এই প্রথম ফটিকছড়িতে শুরু হয়েছে মোবাইল ট্র্যাকিং কার্যক্রম। ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এ যাত্রায় এগিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন।
সম্প্রতি এ মোবাইল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের ডিসি মেজবাহ উদ্দীন। এ সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এ সময় গ্রামীণফোন ও ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
গ্রামীণফোনের পক্ষে চুক্তিপত্রে সই করেন সার্কেল ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাওন আজাদ এবং ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
ফটিকছড়ির ইউএনও মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম সার্কেল ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাওন আজাদ, মার্কেটিং ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনেছে। দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য অর্জিত হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য অভূতপূর্ব। ডিজিটাল কর্মসূচির আওতায় সরকার প্রতিটি বিভাগে ডিজিটালাইজ পদ্ধতি আনতে বদ্ধপরিকর। এরই অংশ হিসেবে আজকে ফটিকছড়ি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হলো। এখন কোন শিক্ষক নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যালয়ে না পৌঁছলে তিনি ধরা পড়ে যাবেন’।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দেশে আমরাই প্রথম এ উদ্যোগ নিয়েছি। গ্রামীণফোনের সহায়তায় এ কার্যক্রম চালু হলো। প্রতিটি ‘বিদ্যালয় পয়েন্ট’ সফটওয়্যার দেয়া আছে। কোন শিক্ষক বিদ্যালয় পয়েন্টে প্রবেশ করলেই তা উপজেলা অফিসে বসে লাইভ দেখা যাবে’।
তিনি বলেন, ‘এ নেটওয়ার্কের আওতায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাতে করে তারা আদৌ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিদর্শনে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন কি-না, তাও দেখা যাবে। ইতোমধ্যে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মাঝে বিতরণকৃত ১০৬৯ সীম ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। ৬ মাস অন্তর এ সার্ভিস রিভিউ-আপডেড করা হবে। এখন থেকে এ ট্রেকিং সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে সবসময়’।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মোবাইল ট্রেকিং ব্যবস্থায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি-অনুপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং অর্থায়নের জন্য ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের আইসিটি সংক্রান্ত সভায় তা প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেন।
পরিষদ তার এ প্রস্তাবে সম্মতি দিলে তিনি দেশের মোবাইল অপারেটরসমূহের সাথে যোগাযোগ করে অর্থায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা কামনা করেন। এ পর্যায়ে সর্বনিম্নে সার্ভিস দিতে সম্মত হয় দেশের বৃহত্তর মোবাইল অপারেটর ‘গ্রামীণফোন’। তারা দু’লক্ষ টাকার মধ্যে পুরো সার্ভিস দিতে সম্মতি প্রকাশ করলে গ্রামীণফোন-ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ ঐকমত্য হয়ে এ প্রস্তাব পুনরায় উপজেলা পরিষদের সভায় পাস হলে অর্থছাড় দেয়া হয়।
এরই আলোকে সম্প্রতি ফটিকছড়ির ২২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৬৯ প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের হাতে গ্রামীণফোনের সিমকার্ড পৌঁছে দেয়া হয়।