মোঃ হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের চিলমারীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বহ্মপুত্রের, তীস্তা, ধল্যার চরাঞ্চলসহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন অববৈধভাবে প্রায় শতশত ট্রাক বালু তুলে বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করায় উপজেলা সদর, হাজার হাজার একর কৃষি জমিসহ হুমকির মুখে পড়েছে জনপদ হুমকির মুখে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পসহ নৌ-বন্দর এলাকা। নদীবিচ্ছিন্ন জনপদের তীরগ্রস্তরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বার বার অভিযোগ করেও কোন ফল পাড়ছেনা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি ট্রাকে গড়ে ২০০ ঘনফুট বালু ধরে। এক ট্রাক বালু বিক্রি হয় এক হাজার ৮শত থেকে দুই হাজার টাকা। আর ট্রকটরে বালু ধরে ১০০ ঘনফুট। প্রতি ট্রাকটর বিক্রি হয় ১হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করেন এসব প্রভাবশালী।
জানা গেছে, উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বহ্মপুত্র নদীর ভাঙন শুরু হয় ষাটের দশকে। আর তখন থেকে আজ পর্যন্ত ভাঙ্গন থামেনি। এবং নদীতে চর জাগতে শুরু করে। একসময় এ নদীতে চলত পণ্যবাহী কার্গো, জাহাজ, বড় পালতোলা নৌকা, আর এখন তা হয়েছে ফসলের মাঠ। নদী তীরবর্তী জেলায় সীমান্ত সাহেবের আলগা থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২০টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা চরকেন্দ্রিক। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরে পুটিমারীসহ ব্যাংমারা, রমনা ঘাট, বড়চর, বান্ডালেরচরসহ নদীর তীরের অর্ধশত পয়েন্টে অবৈধ বালু তোলার ধুম চলছে। শ্যালোইঞ্জিন চালিত ড্রেজার, ড্রেজার ও শ্রমিক দিয়ে বালু কেটে ট্রাক, ট্রাক্টর, ভটভটি, নৌকা, মহিশের গাড়ি ও ভ্যানে করে জেলার বিভিন্ন এলাকার পৌঁছে যায়। দিন-রাত সমানে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে গর্ত। শত শত শ্রমিক সেখানে বালু কাটার কাজ করেন। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর থেকে এসব ব্যবসায়ী বহ্মপুত্র, তীস্তা ও ধল্যার নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এসব জমি থেকে সরকার বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে ইজারাও দেয়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের মদদদাতা ও সুবিধাভোগী হিসেবে এলাকার চিহ্নিত কিছু রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা জড়িত বলে জানা গেছে। নদী তীরবর্তী ঢুষমারা গ্রামের মনির, ফজল মিয়া বলেন, চর জেগে ওঠা পৈতৃক জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করি। কিন্তু ভূমিদস্যুরা জোর করে ফসলি জমি থেকে শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি ও বালু কেটে নিয়ে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে আমরা সংশয়ে পড়েছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, অতি সত্তর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।