বরগুনা: ‘মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্যের স্থান প্রথম হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে গরুর হাটের গুরুত্ব বেশি।’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে গরুর হাট বসানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমন মন্তব্য করেছেন বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার।বরগুনার বামনা উপজেলার দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ জুড়ে বসানো হচ্ছে গরু-ছাগলের হাট। বাদ পড়ছে না শহিদ স্মৃতি স্তম্ভটিও। গরু-ছাগলের ভিড়ে স্কুলে ঢুকতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। যত্রতত্র গরু-ছাগলের মলমূত্রে নোংরা হয়ে থাকছে স্কুলের পরিবেশ। মাঠে গরুর বাজার আর বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসছে পান-সিগারেট ও ঝালমুড়ির দোকানও।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকরা ক্লাস করাচ্ছেন আর জানালার পাশে দাঁড়িয়ে হাটে আগত বখাটেরা শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং করছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, যে গেট দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ঢুকছে সেই গেট দিয়েই বিদ্যালয় মাঠে ঢুকছে গরু ও ছাগল। ঢুকছে দালাল, ক্রেতা ও বিক্রেতাসহ বিভিন্ন ধরনের মানুষ। বিদ্যালয়ের মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ গরু ও ছাগলে। এমনকি বিদ্যালয় মাঠে অবস্থিত শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের ওপরেও চলছে পশু বেচাকেনা। গরুর হাটকে কেন্দ্র করে ঝালমুড়ি, চা ও পান বিক্রেতারাও বসছেন বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায়। বাজারের হৈ-চৈ শব্দে ক্লাসরুমে শিক্ষকের কথা শুনতে পারে না শিক্ষার্থীরা। এতে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।
হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলে, সপ্তাহে দুইদিন গরুর হাট বসে তাদের বিদ্যালয়ের মাঠে। এ দু’দিন তাদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হয়। গরুর হাটের হৈ চৈ শব্দে ক্লাসে শিক্ষকের কথা শুনতে পায় না তারা। এমন সমস্যা চলতে থাকলে তাদের লেখাপড়া করা কঠিন হয়ে যাবে।
হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল হক খান জানান, একই প্রাঙ্গণে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার মূল কেন্দ্র চলে আসছে। শিক্ষাঙ্গন সংকটের এ অঞ্চলে প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের প্রচেষ্টায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানাবিধ উন্নয়ন ঘটেছে। সম্মিলিত এ শিক্ষাঙ্গনকে ঘিরে সেলিনা হোসেনের অনেক স্বপ্ন রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল নানাভাবে এই শিক্ষা কেন্দ্রটির ক্ষতিসাধনে উঠে পড়ে লেগেছে। বারবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, “প্রায় দু’হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত মাঠ থাকা সত্ত্বেও খেলার জন্য মাঠ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া। মুক্তিযুদ্ধ আর সাংস্কৃতিক চেতনা জাগাতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ। এই স্তম্ভের ওপরেও গরুর হাট বসছে যা মেনে নেয়া যায় না।” শত শত শিক্ষার্থীর বিড়ম্বনার কথা ভেবে তা অন্যত্র স্থানান্তরের জন্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের একমাত্র স্কুলকে ঘিরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় চার একর জমি নিয়ে সেখানে গড়ে ওঠে কলেজ, শহিদ স্মৃতিসৌধ এবং কর্মজীবী নারী ও অসহায় শিশু-কিশোরী ছাত্রীনিবাসও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এরকম কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ড. মহাম্মদ বশিরুল আলম বলেন, “বিষয়টি এর আগে আমি জানতাম না। তবে এ নিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
উৎস: নিউজ বাংলাদেশ