রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাক্ষুসী তিস্তার ঘুর্ণি স্রোতে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ১০ দিনের ব্যবধানে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারের স্পার বাঁধের একাংশসহ ১০টি দোকান ঘর, প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। এদিকে ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে ২ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বুড়িরহাট বাজারটি। ভাঙ্গন প্রতিরোধে গতকাল পর্যন্ত— ওইসব এলাকায় কোন কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি পাউবোকে। এ নিয়ে ভাঙ্গন কবলিতদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বুড়িরহাট বাজার, স্পার বাঁধের বাকী অংশসহ আশ-পাশের শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। তাদের একমাত্র চলাচলের বাঁধ রাস্তাটি সম্প্রতি ভাঙ্গনে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা তিস্তায় বিলীন হওয়ার ফলে বিদ্যানন্দ-ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপিসহ দুটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙ্গনের শিকার বুড়িরহাটের জমসের আলী (৪৫) সাবু মন্ডল (৩৫) হামিদুল (৩৫) জানান, সরকারী ভাবে দ্রত কোন পদক্ষেপ না নিলে স্পার বাধটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙ্গন কবলিতদের আকুতি গত দু’সপ্তাহ ধরে নদীর ঘুর্ণি স্রোতে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি-আধাসরকারি এমনকি কোন এনজিও ওইসব পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নেয়নি। মাঝে-মধ্যে তোমরা সাংবাদিকগুলা ছাড়া হামার গুলার কেউ দুঃখের সঙ্গী হবার চান না। তোমরাগুলা এবার বড় বড় করি হামার গুলার দুঃখ কষ্টের কথা লেখিয়া সরকারের মন্ত্রী-এমপিকে জানান দাও বাহে! হামরা গুলা আর ইলিপ চাইনা, নদী ভাঙ্গা থাকিয়া রেহাই চাই। এই কথাগুলো কান্না জড়িত কন্ঠে বললেন আদর্শ গ্রামের আবাসন প্রকল্পের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন (৪৫)। তিস্তার তীরবর্তী লোকজনের বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বুড়িরহাট বাজার এলাকায় উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে স্যানিটারী ল্যাট্রিনটিও নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙ্গনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ভাঙ্গন রক্ষার্থে বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে এবার শুস্ক মওসুমে কাজ করানো হবে। পানি কমতে শুরু করেছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভাঙ্গন আর থাকবে না