রাজশাহী: রাজশাহীতে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী বিরুদ্ধে এক গ্রাহকের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহী মহানগরীর সুজানগর এলাকার বাসিন্দা মো. তফিকের (৫৫) অভিযোগ, বীমার মেয়াদপূর্তির পর বছর পার হলেও বীমা কোম্পানীটি তার প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। টাকার জন্য অফিসে গেলে তাকে অপমান-অপদস্থ করা হচ্ছে। তফিক-সেতারা দম্পতি বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।
তফিক জানান, ২০০৫ সালের ১০ জুলাই তিনি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে একটি জীবন বীমা চালু করেন। তার আইডিপিএস নম্বর- ০৩৯০২০০০৮৪-৭। প্রতিমাসে তিনি ২০০ টাকা করে প্রিমিয়াম জমা দিয়েছেন। গত বছরের ১০ জুলাই তার বীমার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। ১০ বছরে তিনি ২৪ হাজার টাকা প্রিমিয়াম দিয়েছেন। কোম্পানীর নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ পূর্তির পর তিনি প্রায় ৫৫ হাজার টাকা পাবেন।
তফিক আরও জানান, বীমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর স্থানীয় শাখায় যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তাকে টাকা দেয়া হচ্ছে না। প্রতিবারই বলা হচ্ছে, ‘সামনের মাসে আসেন’। এভাবে তিনি ৭-৮ মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে ঘুরছেন। এভাবে হয়রানি না করার অনুরোধ করলে রাজশাহী অফিসের কর্মকর্তারা তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন।
চিকিৎসকের বেশকিছু ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে সেতারা বেগম বলেন, তার স্বামী কয়েকবছর ধরে শারিরীক নানা সমস্যায় ভুগছেন। আগে তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালালেও এখন শারিরীক অক্ষমতায় তাও পারছেন না। দুই ছেলে বিয়ে করে নিজের সংসার নিয়েই ব্যস্ত। এখন তফিকের সংসার চালানোয় দায়। এ অবস্থায় শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ-বালাই। এখন তার চিকিৎসার জন্য হলেও বীমার টাকাটা জরুরী। কিন্তু কোম্পানী কোনোভাবেই তার টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর রাজশাহী অফিসের কর্মকর্তা (ও.জি-২) আলী আজম বলেন, তারা চাইলেই রাজশাহী থেকে কোনো গ্রাহককে টাকা দিতে পারেন না। এজন্য কাগজপত্র ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হয়। কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা দিতে গিয়ে কিছুটা দেরি হয়। তফিকের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে।
বীমার মেয়াদ পূর্তির পরও বছর পার হওয়ায় গ্রাহককে বাড়তি কোনো টাকা দেয়া হবে কী না, জানতে চাইলে আলী আজম বলেন, ‘এটা দেয়া হবে না। প্রধান কার্যালয় এটা করে না। আমাদের কিছু করার নেই।’