• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা

আশুরাসিসি নিউজ: পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবাঙালি সুন্নি মুসলমানরা মেতে উঠেছে উৎসবে। মঙ্গলবার রাতভর  ঢোলের বাজনা, লাঠি খেলা ও তাজিয়া মিছিলে মুসলিমদের ঢল নেমেছে। উত্তরবঙ্গের সব চেয়ে সৈয়দপুরেই প্রায় ৭০টি ইমামবাড়া রয়েছে। মান্নত, নিশান চড়ানো ও ফাতিহা পাঠ হয়ে থাকে এসব ইমামবাড়ায়। রাত ১০টার দিকে প্রতিটি ইমামবাড়ায় বসানো হয় তাজিয়া। স্বাধীনতার পর থেকে অবাঙালিরা তাদের কৃষ্টি ও সভ্যতার কিছুটা পরিবর্তন আনলেও মহরমকে ঘিরে তাদের সংস্কৃতি অটুট রয়েছে। পবিত্র আশুরার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে রয়েছে হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এর দুলদুল ঘোড়ার সজ্জিত প্রতিকী দুলদুল ঘোড়া (পাইক), ইমামবাড়াগুলোতে নিশান উড়ানো, আলোকমালায় সজ্জিতকরণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল, শরবত বিতরণ, কারবালার উদ্দেশ্যে মান্নত পাইকদের ধর্মীয় শোভাযাত্রা, তাজিয়া মিছিল ও ঢোল এবং লাঠি খেলা।
শহরের প্রায় ৭০টি ইমামবাড়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ এসব নানা আয়োজন পালন করছেন।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাজিয়া মিছিলে কেউ কোন আঁতশবাজি বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় তিন শতাধিক আইনশৃংঙ্খলার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি রয়েছে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ। রাতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
উল্লেখ যে, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে আশুরার অনুষ্ঠান সব থেকে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে। কারণ, দেশের একমাত্র সৈয়দপুরেই এককভাবে এত অধিক সংখ্যক উর্দু ভাষাভাষি মানুষ বাস করে। এর পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক পটভূমি। উপমহাদেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেল কারখানাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ আমলে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে সাত হাজার মানুষকে বিহার রাজ্য থেকে আনা হয়েছিল। ১৯৪৭-এর ভারত বিভাগ এবং ৭১-এর পরও তারা বংশ পরস্পরায় এখানেই রয়ে যায়। ধর্মীয় অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে তাদের কাছে আশুরার গুরুত্বও কম নয়। যেহেতু তাদের মধ্যে শিয়া, সুন্নি উভয় মতের অনুসারী রয়েছে, সেহেতু অনুষ্ঠান উদযাপনের তরিকাতেও রয়েছে ভিন্নতা।অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব, আশুরার আগের রাত। এই রাত তারা নানা কর্মকান্ড ও সংস্কার পালনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করে। শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বড় বড় তোরণ। রঙ্গীন কাপড়ে বানানো তোরণের গায়ে জ্বলছে হরেক রং এর বাতি। নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক তাজিয়া। তাজিয়াগুলো দেখতে মসজিদ বা মাজারের গুম্বুজ আকৃতির। মূলত ইমাম হোসেন (রা.) এর মাজারকে স্মরণে রেখে তা নির্মাণ করা হয়।
Print Friendly


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ