দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিলুপ্ত ছিটমহল অকড়াবাড়ীর হাটে শারদীয় দূগাপুজা উপলক্ষে আনন্দ মেলা ৭ অক্টোম্বর শুক্রবার সার্কাস, নাগরদোলা, রেলগাড়ী সহ দেশীয় খেলা ধুলা দিয়ে শুরু হয়। এ মেলার নামে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অনুমোদন বিহীন ভাবে চলচে নিউ ফাইভ ষ্টার র্যাফেল ড্র। এ র্যাফেল ড্র টিকেট কেটে সর্বস্বান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া ও গোপালগঞ্জের বিশিষ্ট ফরগুটি জুয়া খেলার সংঘবদ্ধ দল মেলায় এসে স্থানীয় ভাবে প্রশাসনকে ম্যানেচ করে এই অবৈধ লটারি বানিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ লটারিতে মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের দুল, খাট পালোক, এমনকি টিফিন বাটি ইত্যাদি সহ বেশ কিছু আকর্ষণীয় পুরুস্কার ঘোষনা করছে। এ পুরস্কারের আশায় লটারি কেটে সর্বস্বান্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ ও নিন্ম আয়ের মানুষ। প্রতিদিন রাত দশটায় এ লটারীর ড্র মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতে অনুষ্টিত হচ্চে। এ ড্র মানুষকে বিশ্বাস করার জন্য স্থানীয় ডিস লাইনেও সরাসরি প্রচার করা হয়।
এদিকে প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় ২০ টাকা মূল্যের এ লটারির টিকেট বিক্রি। এ এলাকা সহ আশপাশের নীলফামারী ,ডোমার, ডিমলা, বোদা উপজেলার পাড়ায় মহলায় ভ্যান দিয়ে লোভনীয় মাইকিং এর মাধ্যমে প্রশাসনের ডগায় আঙ্গুল দিয়ে বিক্রি করছে সারাদিন ভর এ সর্বনাশা লটারির টিকেট।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ লটারীকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় ব্যবসা বানিজ্য অচল প্রায়। সবাই লটারি পাওয়ার আশায় টিকেট কেনায় ব্যাস্ত, রাত হলে যাচ্ছে মেলার মাটে। তাই বর্তমানে আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ চলছে।
এবিষয়ে মেলা ফেরত আবুল হোসেন, আলাল, লিটন ইসলাম জানান, প্রতিদিন এ লটারি কিনছি এখনো পইনি যতদিন চলবে কিনতে থাকবো যদি পাই। যদি পাওয়ার আশায় এলাকার সবাই সহজ সরল মানুষ মহিলা, শিশু, কিশোর, এমনকি বৃদ্ধরাও খেয়ে-না খেয়ে লটারীর টিকেট কিনে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
জানাযায়, গত মঙ্গলবার ডোমার উপজেলা শহরে এ টিকেট বিক্রি করতে গিয়ে লটারীর ৪টি টিনের ড্রাম,ভ্যান ও লটারী বিক্রেতাকে আটক করে রাখে ডোমার থানা পুলিশ। ঐদিন লটারী ড্রর সময় ৪টি ড্রাম না থাকা ঘঠনাটি জানায়ানি হয়। পরে ঐ ড্রামগুলো ছাড়াই লটারীর ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
এবিষয়ে ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহম্মেদ রাজিউর রহমান জানান, অবৈধ লটারী বিক্রি করার অপরাধে ৭জন ও তাদের লটারী বিক্রি করার সময় যাবতীয় মালামাল আটক করে করা হয়। লটারী বিক্রি করতে আসা ৭ জনকে ফৈজদারী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে শপদ্ধ করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকুমার মহন্ত জানান, এ মেলার অনুমোদন এখনো হয়নি তবে অনুমোদনের আবেদন করা হয়েছে। আর লটারীর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, লটারীর কোন অনুমোদন হয় না।
তবে এ কদিনের লটারির ড্র খেলায় শোনা যায়, অচল মোটর সাইকেল ও নতুন পুরাতন জিনিসপত্র পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এ অনুমোদন বিহিন লটারি কতদিন চলবে কেউ জানেনা। স্থানীয়দের দাবী মেলা চললেও অবিলম্বে এ অবৈধ সর্বনাশা লটারি বন্ধ করা হোক।