রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি-জমা সংক্রান্ত কোন্দলের জের ধরে স্কুল শিক্ষক চাচার রামদা’র কোপে আপন ভাতিজা-ভাবিসহ ৬ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় রাজারহাট থানায় ভাবি রহিমা বেওয়া বাদী হয়ে স্কুল শিক্ষক দেবর হাবিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণে প্রকাশ, উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের আশ্চার্য্য (বৈদ্যের বাজার) এলাকার বাসিন্দা মৃত আজিজুর রহমানের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) এর সঙ্গে তার আপন চাচা মজিবর রহমান (৬০) ও হাবিবুর রহমান (৫৫) গংদের দীর্ঘদিন ধরে চাচা-ভাতিজার মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত কোন্দল চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে শনিবার বিকালে স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান এবং তার বড় ভাই মজিবর রহমানসহ অভিযুক্তরা রামদা, ছোরা, লোহার রড হাতে নিয়ে ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাকসহ ৬ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে রাজারহাট হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল অবস্থার অবনতি হলে আব্দুর রাজ্জাককে চিকিৎসকরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। হামলায় আহতরা হলেন-আব্দুর রাজ্জাক (৩৫), মজনু মিয়া (৩০), শাহিদুল ইসলাম রিজু (২৪), রহিমা বেওয়া (৫৫), আতাউর রহমান (৩৫), চাচা মজিবর রহমান (৬০)। যাহার রাজারহাট থানার মামলা নং-১২। এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, গতরাতে মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ইতিপূর্বে চাচা-ভাতিজাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ঘটেছিল এবং বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
রাজারহাটে কয়েন বিড়ম্বনা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সর্বত্রই এখন এক টাকা, দুই টাকা এবং পাঁচ টাকার কয়েন মুদ্রা নিয়ে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে। মনে হচ্ছে যেন এসব দেখার কেউ নেই। সরজমিনে দেখা গেছে, কোন ধরণের ঘোষণা ছাড়াই গত ক’মাস ধরে উপজেলার ব্যাংকের শাখা গুলোতে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার কয়েন মুদ্রাগুলো জমা নেয়া থেকে বিরত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলো। এর ফলে প্রতিনিয়ত ক্রেতা-বিক্রেতাগণ কয়েন নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছে। একাধিক ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদককে বলেন, সাংবাদিক ভাই, কয়েন মূদ্রাগুলোর বিষয়ে একটু লেখা-লেখি করেন, তা না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা সদর বাজারের ‘অন্তর ভ্যারাইটি ষ্টোর’র প্রো. পলাশ চন্দ্র মহন্ত (৩৩), হক গ্র“পের ডিলার ‘তৌহিদ এন্টারপ্রাইজ’-এর প্রো. তৌহিদুর রহমান তৌহিদ (২৮) বলেন, কয়েন নিয়ে যে ঝামেলায় পড়েছি, এভাবে চললে কিছুদিনের মধ্যে ডিলার শীপ বন্ধ করা ছাড়া কোন উপায় দেখছি না। কারণ জানতে চাইলে আরও বলেন, এ পর্যন্ত ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন মূদ্রা প্রায় ৪০ কেজির মত জমা রয়েছে। ব্যাংক সেগুলো জমা নিচ্ছে না। বিষয়গুলো নিয়ে একটু লেখা-লেখি করেন ভাই। এ বিষয়ে রাজারহাট শাখা সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জিতেন্দ্র নাথ বলেন, তাঁর শাখায় কয়েন জমা নেয়া হয় না, এ অভিযোগ সঠিক নয়। আলাদা-আলাদা ভাবে পোঁটলা বেঁধে নিয়ে আসলে তা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও মন্দিরের দান বাক্সে হাজার হাজার টাকার কয়েন মুদ্রা জমা পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। সবমিলিয়ে কয়েন মুদ্রা নিয়ে বর্তমানে রাজারহাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে।