নীলফামারী প্রতিনিধি: ‘নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোতে তুলা উৎপাদনে বেশ সম্ভাবনাময়। এসব জেলায় তুলা উৎপাদন করা গেলে বছরের অন্তত ১০০ কোটি ডলার আমদানী ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।
বর্তমানে দেশে প্রতিবছর চাহিদা ৬০ লাখ বেল তুলার ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়, যার আমদানী ব্যয় তিনশত কোটি ডলার। ’
সোমবার বেলা ১২টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডের ডায়াজ হোটেলে অনুষ্ঠিত “বুষ্টিং কটন প্রোডাকশন ইন নর্থ-বেঙ্গল এ্যান্ড ইটস প্রবলেম এ্যান্ড প্রসপেক্টাস” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
জেরিন টেক্স, আরএমজি ক্রোনিক্যাল এবং নীলফামারী শিল্প ও বণিক সমিতির যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
জেরিন টেক্স’র কর্ণাধর জুবায়ের আলম জুয়েলের সভাপতিত্বে সেমিনাওে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডেন নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদ উদ্দিন।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মুজিবুর রহমান, নেদারল্যান্ড পিইউএম এর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জ্যাক স্টিকমা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএম ইদ্রিস, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলী, নীলফামারী শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি ফরহানুল হক উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ স্পিনফ স্টুডিও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরএমজি ক্রোনিক্যালের সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রধান অতিথি তুলা উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী পরিচলক ড. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে দেশে ৪৩ হাজার হেক্টও জমিতে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার বেল তুলা উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর। অথচো প্রতিবছর দেশে চাহিদা ৬০ লাখ বেল তুলা। চাহিদার সিংহভাগই আমাদের আমদানী করতে হয়। এতে প্রতিবছ্ও অন্তত ৩শ’ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়।
বর্তমান সরকার দেশের ৭ লাখ হেক্টও পতিত জমিতে প্রতিবছর ২০ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তুলার উৎপাদন বাড়াতে এরই মধ্যে দক্ষিনাঞ্চলের সাড়ে চার লাখ হেক্টর পতিত লবনাক্ত জমিতে তুলা চাষ শুরু করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোতেও তুলা চাষের ব্যবক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব জেলার পতিত জমিতেও আবাদ বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
জেরিন টেক্স’র কর্ণাধর জুবায়ের আলম জুয়েল বলেন, তৈরি পোশাক খাতের (আরএমজি) তুলা আমদানি নির্ভরতা কমাতে উৎপাদনের কোন বিকল্প নেই। আমরা যদি এক তৃতীয় অংশ আমদানী কমাতে পারি তবে একশত কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। এ জন্য আমাদের তুলা উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর তুলা উৎপাদনে দক্ষিনাঞ্চলের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হতে পারে উত্তারাঞ্চলের জেলাগুলো। এই অঞ্চলে অধিকাংশ জমিতেই তামাক চাষ করা হয়। তাম চাষ বন্ধসহ কৃষকদের তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে তুলা চাষে উৎসাহিত করা গেলে আমদানীর এক তৃতীয়াংশ তুলা এই উত্তরাঞ্চল কৃষকরাই উৎপাদন কওে দিবে। তুলা উৎপাদন বাড়াতে হলে এবং কৃষকদের জন্য তুলা চাষে উৎসাহিত করতে হলে সরকারি ভাবে ভর্তূকী প্রনোদনা ব্যবস্থাসহ আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে।